ঢাকাThursday , 5 November 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে রডবিহীন সিসি ঢালাইয়ে রাস্তা নির্মাণ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ! ঠিকাদার বিএনপি নেতা আলতাফ মাহমুদ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল বগুড়া রোডের শীতলাখোলা এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) আওতাধীন এই সড়কে রডবিহীন সিসি (কংক্রিট) ঢালাই এবং নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে সড়ক নির্মাণের পেছনে ব্যয় হচ্ছে নগরবাসীর করের টাকা, সেই সড়কের কাজের মান নিশ্চিত হচ্ছে তো? নাকি দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে বিল উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে?

স্থানীয়দের অভিযোগ, বগুড়া রোডের শীতলাখোলা এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে সড়ক নির্মাণে যথাযথ মান বজায় রাখা হচ্ছে না। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান, কংক্রিটের মিশ্রণ, ঢালাইয়ের পুরুত্ব এবং সার্বিক নির্মাণপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রড ছাড়া সিসি ঢালাই দিয়ে সড়ক নির্মাণের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কটির নির্মাণকাজের ঠিকাদার বিএনপি নেতা আলতাফ মাহমুদ। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ঠিকাদারের প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, বরং নির্মাণকাজের গুণগত মান ও চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রড ছাড়া ঢালাই, কতটা টেকসই হবে সড়ক?

সিসি সড়ক নির্মাণে সব ক্ষেত্রে রড ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রকৌশলগত নকশা, মাটির ধারণক্ষমতা, কংক্রিটের নির্ধারিত শক্তি, ঢালাইয়ের পুরুত্ব, জয়েন্ট এবং নির্মাণপদ্ধতির ওপর সড়কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। তাই রড ব্যবহার না করা হলেই কাজটি অনিয়ম—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বগুড়া রোডের শীতলাখোলা এলাকায় যে পদ্ধতিতে সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে, তা কি অনুমোদিত নকশা ও কার্যাদেশের শর্ত অনুযায়ী হচ্ছে?

নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালু, পাথর, সিমেন্ট ও অন্যান্য উপকরণের মান পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, কংক্রিটের নির্ধারিত অনুপাত বজায় রাখা হচ্ছে কি না, ঢালাইয়ের পুরুত্ব ঠিক আছে কি না এবং যথাযথভাবে কিউরিং করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

কারণ, সড়ক নির্মাণের পর অল্প সময়ের মধ্যে ফাটল, ভাঙন কিংবা বিভিন্ন ধরনের ক্ষয় দেখা দিলে এর দায় শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় সাধারণ মানুষকেই।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের ভূমিকা কোথায়?

নগরবাসীর অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ঠিকাদার কাজ করছেন, কিন্তু সেই কাজের মান যাচাই করছেন কারা? দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিয়মিত নির্মাণস্থল পরিদর্শন করছেন কি না? নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না? কার্যাদেশে উল্লেখিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান স্থানীয়রা।

শুধু রাস্তার ওপর কংক্রিট ঢেলে নির্মাণকাজ শেষ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। উন্নয়ন হতে হবে টেকসই, পরিকল্পিত এবং জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অন্যথায় অল্প সময়ের ব্যবধানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে একই রাস্তা সংস্কারে আবারও সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে। এতে একদিকে যেমন নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়বে, অন্যদিকে অপচয় হবে জনগণের অর্থ।

প্রশ্নের মুখে ঠিকাদারি কাজের মান ও জবাবদিহি

বগুড়া রোডের শীতলাখোলা এলাকার এই নির্মাণকাজ ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সড়কটি কত বছরের স্থায়িত্ব বিবেচনায় নির্মাণ করা হচ্ছে? কাজের মান যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীরা কী ধরনের তদারকি করছেন? নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কোনো স্বাধীন পরীক্ষা করা হবে কি না?

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপ যাচাই করা হোক। প্রয়োজনে কংক্রিটের নমুনা পরীক্ষা, ঢালাইয়ের পুরুত্ব পরিমাপ এবং অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব কাজের তুলনা করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

জনগণের টাকায় নির্মিত এই সড়ক কি দীর্ঘদিন টিকবে, নাকি কয়েক মাস পরই আবার সংস্কারের প্রয়োজন হবে?

বরিশাল নগরবাসী উন্নয়ন চায়, তবে সেই উন্নয়ন যেন হয় টেকসই ও মানসম্মত। লোক দেখানো কাজ কিংবা দায়সারা নির্মাণ নয়, জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত সিটি করপোরেশনের প্রধান অগ্রাধিকার। বগুড়া রোডের শীতলাখোলার নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি এখন স্থানীয়দের।