ঢাকাSaturday , 7 November 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে ৬৫ কোটি টাকার আধুনিক স্টেডিয়াম, ক্রিকেটে প্রাণ ফেরার অপেক্ষা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে সাজছে বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান অবকাঠামো কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম। প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটিকে দেওয়া হচ্ছে নতুন অবয়ব। গ্যালারিতে নতুন চেয়ার, সংস্কার করা প্যাভিলিয়ন ও মিডিয়া ভবন, তিনতলাবিশিষ্ট হোস্টেল, আধুনিক ফ্লাডলাইটসহ যুক্ত হয়েছে নানা সুযোগ-সুবিধা। সব মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে বড় পরিসরের ক্রিকেট আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এত বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—বরিশামের ক্রিকেটে কি সত্যিই নতুন জোয়ার আসবে? এখানকার তরুণ ক্রিকেটাররা কি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন? দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা স্থানীয় ক্রিকেট লিগ কি আবারও নিয়মিত মাঠে গড়াবে? নাকি কোটি কোটি টাকার আধুনিক স্থাপনা উদ্বোধন ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রত্যাশা, স্টেডিয়ামের নতুন রূপ শুধু দর্শকদের চোখে সৌন্দর্য ছড়াবে না; বরং বরিশালের ক্রিকেটে তৈরি করবে নতুন প্রাণ, নতুন প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটার।

১৯৬৬ সালের ঐতিহ্য, সময়ের সঙ্গে বদলেছে স্টেডিয়ামের পরিচয়

বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই স্টেডিয়াম। ১৯৬৬ সালে ২৯ দশমিক ১৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল স্টেডিয়াম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এটি স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।

২০০৮ সালে স্টেডিয়ামটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম।

নাম ও পরিচয়ের পরিবর্তনের পাশাপাশি এবার বড় ধরনের অবকাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে স্টেডিয়ামটি। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে বরিশাল শুধু বিভাগীয় পর্যায়ের খেলাধুলায় নয়, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা আয়োজনেও আরও সক্ষমতা অর্জন করবে।

৬৫ কোটি টাকার উন্নয়ন, বদলে যাচ্ছে স্টেডিয়ামের চেহারা

স্টেডিয়ামটির আধুনিকায়ন ও সংস্কারকাজ শুরু হয় ২০২১ সালে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তী সময়ে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের শেষ দিকে সংস্কারকাজের প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছিল। অবশিষ্ট কাজ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সংস্কারকাজের ফলে স্টেডিয়ামটির চেহারায় এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। গ্যালারিতে স্থাপন করা হয়েছে নতুন চেয়ার। সংস্কার করা হয়েছে প্যাভিলিয়ন ও মিডিয়া ভবন। খেলোয়াড়দের আবাসন ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সুবিধা বাড়াতে নির্মাণ করা হয়েছে তিনতলাবিশিষ্ট হোস্টেল। রাতের বেলায় খেলা আয়োজনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ফ্লাডলাইট।

এসব সুবিধা চালু হলে স্টেডিয়ামটি আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া আয়োজনের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে উন্নয়নের পাশাপাশি দর্শক ধারণক্ষমতায় এসেছে পরিবর্তন। আগে গ্যালারিতে নির্দিষ্ট আসনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক অবস্থান করতে পারতেন। নতুন চেয়ার স্থাপনের পর ধারণক্ষমতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯ হাজারে। অর্থাৎ দর্শকদের বসার পরিবেশ উন্নত হলেও মোট ধারণক্ষমতা কমেছে।

১৫ ডিসেম্বর থেকে ক্রিকেটের নতুন অধ্যায় শুরুর পরিকল্পনা

স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা এখন ক্রিকেটকে ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন নিয়মিত ও বড় পরিসরের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার জন্য।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও বরিশাল বিভাগের খেলোয়াড় নির্বাচনের সমন্বয়কারী মিজানুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর সংস্কারকৃত স্টেডিয়াম চালু করে সেখানে ১৫ দিনব্যাপী ডি-থ্রি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ছয়টি দলের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকার ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন পর বরিশালের ক্রিকেটাররা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের একটি বড় মঞ্চ পাবেন।

এ আয়োজন শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং বরিশালের ক্রিকেটকে নতুনভাবে সংগঠিত করার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে একটি প্রতিযোগিতা আয়োজন করলেই ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে না। প্রয়োজন ধারাবাহিক আয়োজন, নিয়মিত অনুশীলন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের যথাযথ মূল্যায়ন।

নিয়মিত লিগ ছাড়া নতুন ক্রিকেটার তৈরি কঠিন

বরিশালের ক্রিকেটের বাস্তব চিত্রে সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো নিয়মিত প্রতিযোগিতার অভাব। নতুন প্রজন্মের অনেক ক্রিকেটার প্রতিভা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। অনুশীলন আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট এক বিষয় নয়। মাঠে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেলে একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়া কঠিন।

বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ এজাজ আল মাহমুদ মনে করেন, স্থানীয় ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগ নিয়মিত আয়োজন করা জরুরি।

তার মতে, নিয়মিত লিগ চালু থাকলে বিভিন্ন ক্লাবের খেলোয়াড়রা নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং যোগ্য খেলোয়াড়দের উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি হবে।

ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর ক্রিকেট কাঠামো গড়ে তুলতে হলে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ শুরু করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজনের পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্ন হচ্ছে, ৬৫ কোটি টাকার আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি হওয়ার পর সেই মাঠে স্থানীয় ক্রিকেটারদের জন্য সারা বছর কতটা খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে?

পরিত্যক্ত সুইমিংপুল: কোটি টাকার স্থাপনা পড়ে আছে অব্যবহৃত

স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে চাঁদমারি এলাকার পরিত্যক্ত সুইমিংপুল। ২০০০ সালের ১১ এপ্রিল উদ্বোধন করা এই সুইমিংপুলটি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি এখন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থে নির্মিত একটি ক্রীড়া অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি, অন্যদিকে বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে বিদ্যমান মাঠের সংকটও রয়ে গেছে।

বরিশাল বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব আনোয়ারুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঠের সংকট কমাতে পরিত্যক্ত সুইমিংপুলটি সরিয়ে সেখানে আলাদা খেলার মাঠ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন খেলাধুলার জন্য নতুন একটি মাঠ পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বপ্ন, প্রয়োজন আরও প্রস্তুতি

আধুনিকায়নের পর কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ফ্লাডলাইট, উন্নত গ্যালারি, প্যাভিলিয়ন, মিডিয়া ভবন ও হোস্টেল—সব মিলিয়ে স্টেডিয়ামটির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের জন্য শুধু সুন্দর গ্যালারি কিংবা ফ্লাডলাইট থাকলেই যথেষ্ট নয়। মাঠের খেলার উপযোগিতা, পিচের মান, আউটফিল্ড, খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা, সম্প্রচারব্যবস্থা, দর্শক ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে বরিশালের যাতায়াতব্যবস্থা ও বড় প্রতিযোগিতা পরিচালনার সামগ্রিক সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। যথাযথ মান যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই এ স্টেডিয়ামকে বড় ক্রিকেট আয়োজনের উপযোগী করে তোলা সম্ভব।

অবকাঠামো হয়েছে, এবার প্রয়োজন কার্যকর ক্রীড়া পরিকল্পনা

বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি একটি স্থায়ী ক্রীড়া পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক। যেখানে শুধু জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট নয়, স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেট, স্কুল ক্রিকেট, বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে নিয়মিত বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা, যোগ্য কোচ নিয়োগ, প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত অনুশীলনের সময় বরাদ্দ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে মাঠের ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি অর্থে নির্মিত ক্রীড়া অবকাঠামো যেন বছরের অধিকাংশ সময় অব্যবহৃত না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।

বরিশালের তরুণদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সেই আগ্রহকে সঠিক পথে পরিচালিত করার মতো সুযোগ ও পরিবেশ।

প্রত্যাশা একটাই—৬৫ কোটি টাকার উন্নয়ন যেন ক্রিকেটের ভাগ্য বদলায়

প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম এখন বরিশালের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার প্রতীক। কিন্তু এই উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য, নতুন চেয়ার কিংবা আলোকসজ্জা দিয়ে নয়; বরং এখান থেকে কতজন নতুন ক্রিকেটার উঠে আসছেন, কতটি নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন হচ্ছে এবং বরিশালের ক্রিকেট কতটা এগিয়ে যাচ্ছে, তা দিয়েই।

বরিশালের ক্রীড়াপ্রেমীরা এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন, যখন এই স্টেডিয়ামে শুধু বড় ম্যাচের আয়োজন হবে না, প্রতিদিন অনুশীলনে মুখর থাকবে মাঠ। গ্যালারিতে দর্শকদের উপস্থিতি থাকবে, স্থানীয় ক্লাবগুলো নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান তরুণরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের জায়গা করে নেবেন।

একটি আধুনিক স্টেডিয়াম একটি অঞ্চলের ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দিতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন স্থায়ী করতে প্রয়োজন পরিকল্পনা, ধারাবাহিকতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা।

বরিশালের মানুষের প্রত্যাশা, ৬৫ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ যেন কেবল ইট-পাথরের উন্নয়ন হয়ে না থাকে। কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়াম হয়ে উঠুক দক্ষিণাঞ্চলের ক্রিকেটের নতুন ঠিকানা, নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের মঞ্চ এবং জাতীয় ক্রিকেটে বরিশালের শক্ত অবস্থান তৈরির অন্যতম কেন্দ্র।