ঢাকাFriday , 9 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুর চোখের ক্ষতি কি শুধু মোবাইলের কারণে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৮

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা :: শিশুর চোখের ক্ষতি কি শুধু মোবাইলের কারণে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ

শিশু পড়তে বসেছে, কিন্তু বইয়ের চেয়ে চোখ আটকে আছে ট্যাবের পর্দায়। কারও আবার অনলাইন ক্লাস, কারও বিনোদন, কেউবা গেম খেলতে খেলতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দিচ্ছে। এর মধ্যে চোখ কচলানো, টিভি দেখতে খুব কাছে গিয়ে বসা কিংবা বারবার মাথাব্যথার অভিযোগও করছে অনেকে। এমন দৃশ্য এখন অনেক পরিবারেরই পরিচিত।

শিশুর চোখের এসব সমস্যার সঙ্গে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ গুপ্ত। এ বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমসে কথা বলেছেন তিনি। তার মতে, শুধু স্ক্রিন দেখাকেই সব সমস্যার জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না। বরং দীর্ঘ সময় কাছের জিনিসে তাকিয়ে থাকা, বিরতি না নেয়া এবং বাইরে কম সময় কাটানো এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটারের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকলে শিশুদের ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ হতে পারে। ডা. গুপ্তের ব্যাখ্যা, স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়ার সময় মানুষ স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলে। এতে চোখের ওপরের অশ্রুর স্তর বা টিয়ার ফিল্মে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ফলে চোখ শুষ্ক হওয়া, জ্বালা, পানি পড়া, ঝাপসা দেখা কিংবা মাথাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ভারতের ইন্ডিয়ান জার্নাল অব অপথালমোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৪৬২ জন স্কুলশিশুকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এতে ৯০ শতাংশের বেশি শিশুর চোখে শুষ্কতার উপসর্গ পাওয়া যায়। প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের সঙ্গে চোখ শুষ্ক হওয়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ক্রিন শিশুদের চোখ স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিচ্ছে। ডা. গুপ্তের মতে, সমস্যার বড় কারণ হতে পারে একটানা কাছের জিনিসে তাকিয়ে থাকা, চোখ থেকে স্ক্রিনের দূরত্ব কম থাকা, অতিরিক্ত আলো বা ঝলক এবং পর্যাপ্ত বিরতি না নেওয়া

চশমার পাওয়ার বাড়ছে কেন

শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বা দূরের জিনিস ঝাপসা দেখার সমস্যা দিন দিন বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে এর জন্য শুধু মোবাইল বা ট্যাবকে দায়ী করা যাবে না। জেনেটিক কারণ, দীর্ঘ সময় কাছের জিনিসে তাকিয়ে থাকা, পড়াশোনার চাপ এবং বাইরে কম সময় কাটানো সবই মায়োপিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে জানান ডা. প্রদীপ গুপ্ত।

এ ক্ষেত্রে বাইরে খেলাধুলা বা সময় কাটানো গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, সাইকেল চালানো, খেলাধুলা কিংবা পার্কে সময় কাটানোর মতো অভ্যাস শিশুদের দীর্ঘ সময় কাছের জিনিসে তাকিয়ে থাকার একঘেয়েমি থেকে বিরতি দেয়। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা বাইরে কাটানো একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হতে পারে।

মোবাইল কি তবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেবেন?

বাস্তবতা হলো, বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবন থেকে প্রযুক্তি পুরোপুরি বাদ দেয়া সম্ভবও নয়, প্রয়োজনও নেই। তাই ডা. গুপ্তের পরামর্শ, স্ক্রিন নিষিদ্ধ করার বদলে ব্যবহারের ধরন বদলাতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম। অর্থাৎ, প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকাতে হবে।

পাশাপাশি স্ক্রিন চোখ থেকে আরামদায়ক দূরত্বে রাখা, ঘরে পর্যাপ্ত আলো রাখা এবং স্ক্রিনে অতিরিক্ত ঝলক এড়িয়ে চলাও জরুরি। শিশুকে নিয়মিত পলক ফেলতেও মনে করিয়ে দিতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিদিন কিছুটা সময় যেন স্ক্রিনের বাইরে কাটে।

যে লক্ষণগুলো অবহেলা নয়

শিশু বারবার চোখ কুঁচকে দেখলে, টিভি বা মোবাইল খুব কাছে নিয়ে বসলে, বই চোখের একেবারে কাছে ধরে পড়লে কিংবা নিয়মিত মাথাব্যথার কথা বললে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। শ্রেণিকক্ষের বোর্ড দেখতে সমস্যা হলেও চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

ডা. প্রদীপ গুপ্তের মতে, শিশুর চোখ ভালো রাখতে স্ক্রিন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চেয়ে প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস। কখনো কখনো চোখের যত্নে সবচেয়ে কার্যকর কাজ হতে পারে শিশুকে শুধু স্ক্রিনটি নামিয়ে বাইরে তাকাতে উৎসাহিত করা।