ঢাকাThursday , 30 July 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারিয়ে যাওয়া বান্ধবীকে খুঁজতে শহরজুড়ে পোস্টার, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকব

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :: স্বপ্না, তুমি যদি কোথাও থেকে এই পোস্টারটি দেখো, একবার শুধু যোগাযোগ করো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকব। রাজনৈতিক স্লোগান কিংবা পণ্যের বিজ্ঞাপনে ভরা দেয়ালের ভিড়ে হঠাৎ চোখ আটকে যায় অনন্য এক বার্তায়। সাভারের আশুলিয়া ও জিরোবোর পিচঢালা সড়ক, রাস্তার পাশের দেয়াল কিংবা বিদ্যুতের খুঁটিতে সাঁটানো এই সাদা-কালো পোস্টারটি যেন হারিয়ে যাওয়া এক গল্পের শেষ পাতা খোঁজার ব্যাকুল আর্তনাদ।

আশুলিয়ার জিরোবো এলাকায় সম্প্রতি স্থানীয়দের নজর কাড়ছে মো. মাসুদ রানা নামের এক যুবকের এই অভিনব পোস্টার। প্রায় দুই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহপাঠী ‘স্বপ্না’কে খুঁজে পাওয়ার শেষ চেষ্টা হিসেবেই পাড়া-মহল্লায় এ বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

পোস্টারের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালে। তখন জিরোবো ব্র্যাক স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন মাসুদ ও স্বপ্না। মিষ্টি গালের একটি তিল আর ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করে স্বপ্নার স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যাওয়াই ছিল এই নিখোঁজ গল্পের শুরু।

পরে মাসুদ জানতে পারেন, পারিবারিক চরম অভাব-অনটনের কারণে পড়ালেখা ছেড়ে পোশাক কারখানায় কাজে ঢুকতে হয়েছিল স্বপ্নাকে। সময়ের ব্যবধানে জিরোবোর বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস)—যেমন প্রিন্ট ফ্যাক্টরি, কন্টিনেন্টাল কিংবা ইনসেপ্টাসংলগ্ন এলাকার কারখানাগুলোর ফটকে ফটকে ঘুরে স্বপ্নার খোঁজ করেছেন মাসুদ। তবে শেষ পর্যন্ত কেবল ব্যর্থতাই জুটেছে তার কপালে।

বর্তমানে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে কর্মরত মাসুদ রানা কর্মসংস্থানের তাগিদে জিরোবো ছেড়ে পাড়ি দেন গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা এলাকায়। দীর্ঘ সময় যে এলাকায় দাঁড়িয়ে স্বপ্নার ফেরার অপেক্ষা করা যেত, সেই জিরোবো ছেড়ে যাওয়ার প্রাক্কালে চরম আবেগের বশে এমন পদক্ষেপ নেন তিনি।

khagrachari-bisboy-boy
১৮ মাস বয়সেই ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’
মুঠোফোনে সংবাদদাতাকে মাসুদ রানা বলেন, ছোটবেলায় জিরোবোতে একসঙ্গে পড়েছি। মনে এক ধরনের পছন্দ বা ভালোলাগা ছিল, কিন্তু শিশু বয়সে তা কোনোদিন বলা হয়নি। এমনকি তার কোনো ছবি বা ফোন নম্বরও আমার কাছে নেই। আমি এখন মাওনা চলে যাচ্ছি, এখন আর চাইলেও প্রতিদিন এসে খোঁজ করা সম্ভব নয়। তাই ভাবলাম যদি এই পোস্টারটি কোনোভাবে তার চোখে পড়ে! মৃত্যুর আগে শুধু একবার হলেও তার সঙ্গে কথা বলতে চাই।

রাজনীতি কিংবা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের বাইরে এমন এক নিঃস্বার্থ ও আবেগঘন পোস্টার দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে চর্চা।

স্পেকট্রাম গার্মেন্টসের সামনে সাঁটানো পোস্টারটি দেখে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান বলেন, গানে বা সিনেমায় ভালোবাসার মানুষের জন্য শহরজুড়ে পোস্টার সাঁটানোর কথা শুনেছি। বাস্তবে এমন নিঃশব্দ হাহাকার কখনো দেখিনি। সত্যি চাই, এই দুই বন্ধুর যেন দেখা হয়।