
দানিসুর রহমান লিমন, বিশেষ প্রতিবেদক :: বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার সংযোগস্থলে রাঙামাটি নদীর ওপর নির্মিত বাকেরগঞ্জের পূর্বাঞ্চলবাসীর স্বপ্নের দ্বার উন্মোচন হয়েছে। ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে গোমা সেতুটি চালু হওয়াকে স্থানীয়রা বড় ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে দেখছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১টায় গোমা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান।
বরিশালের লক্ষ্মীপাশা-দুমকী সড়কের ১৪তম কিলোমিটারে নির্মিত এই সেতুর ফলে বাকেরগঞ্জ ও দুমকী উপজেলার মানুষের যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আগে যেখানে দুটি ফেরি পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো, এখন সেখানে একটি ফেরির প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেল।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই সেতুটি ব্যবহারের ফলে যাতায়াত আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
প্রায় ২৮৩ মিটার দীর্ঘ এই পিসি গার্ডার ও স্টিল ট্রাস সেতুর সঙ্গে ১.৯০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হলেও নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর উচ্চতা বাড়ানোয় নির্মাণ ব্যয়ে পরিবর্তন আসে।
শেষ পর্যন্ত ৯২ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নদীভাঙন রোধে সেতুর দুই তীরে করা হয়েছে শক্তিশালী নদী শাসন ও স্লোপ প্রোটেকশন কাজ।
বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান মনে করেন, এই সেতুটি কেবল যোগাযোগের পথ নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। সেতুর মাধ্যমে বাকেরগঞ্জ ও দুমকীর কৃষিপণ্য এবং মাছ দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সওজ বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানান, উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতুটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে ঈদের ফিরতি পথে এই অঞ্চলের মানুষের ঈদ আনন্দ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

