ঢাকাFriday , 30 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে পদে পদে বঞ্চনার শিকার কামাল হায়দার, এবার সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৪

দানিসুর রহমান লিমন, বিশেষ প্রতিবেদক :: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিচয়ের কারণে পেশাগত বঞ্চনা ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন সরকারি কর্মকর্তা এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার। দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনা ও হয়রানির পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার অতীতের কিছু ছবি ও রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সভাপতি মরহুম শামসুল আলম প্রামানিকের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিচয়ের কারণে তিনি নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, উপসচিব পদে পদোন্নতির প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের অজুহাতে তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি ২০১৮ সালে তাকে টানা আট মাস ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সূর্যসেন হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক আল আমিন মিরা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ পরিচয়কে কেন্দ্র করে অতীতে কয়েকটি গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষা ক্যাডারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগপন্থী কিছু কর্মকর্তা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও কোণঠাসা করার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণায় ভূমিকা রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিগত সরকারের আমলের কয়েকজন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কামাল হায়দারের ছবি প্রকাশ করে নতুন করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

তাদের ব্যাখ্যা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষামন্ত্রীরা সরকারি কর্মসূচি ও প্রটোকলের অংশ হিসেবে তার কর্মস্থল বা প্রতিষ্ঠানে গেলে দায়িত্ব পালনের সুবাদে এসব ছবি তোলা হয়েছিল। ছবিগুলোকে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা কিংবা বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয় বলে তারা দাবি করেন।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ওই সময়ে ডিজিএফআই ও এনএসআই পরিচয়ে বিভিন্ন সময় ফোন করে তার ভাইদের অবস্থান জানতে চাওয়া হতো। এতে তিনি ও তার পরিবার মানসিক চাপে ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবেই শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনদের দাবি। তাদের মতে, এসব ছবি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়নি।

কামাল হায়দারের শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবি, দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের জানা নেই।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় বা সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তোলা ছবি দিয়ে কাউকে বিচার করা উচিত নয়। কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইবিহীন তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তির সম্মানহানি বন্ধে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে পেশাগত বঞ্চনা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাম্প্রতিক অপপ্রচারের প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করা হোক।