ঢাকাশনিবার , ৬ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আগস্টে উদ্বোধনের লক্ষ্য, কিন্তু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ : সংশয়ে বরিশাল শিশু হাসপাতাল

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ৬, ২০২৬ ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১১০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আগস্ট মাসে দেশের নবনির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জে নির্মিত শিশু হাসপাতালটির ভবন আজও হস্তান্তর হয়নি। পানি ও বিদ্যুতের সাবস্টেশনসহ বহু কাজ এখনো বাকি। এমনকি ২০০ বেডের হাসপাতালে বেড রয়েছে মাত্র ৬৫টি। এসব কারণে হাসপাতালের সকল কাজ সম্পন্ন করে আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে এটি যুক্ত হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নগরবাসী থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। তবে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারসহ অনেকেই শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন এর তাগিদ দিয়েছেন। বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, বিভাগের ছয় জেলা এবং পদ্মার এপারে সর্বমোট ১১ জেলার শিশুদের কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিশু হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় ১০ তলা ভিত দিয়ে চারতলা ভবন নির্মিত হয়। ২০০ বেডের হাসপাতালটিতে বাউন্ডারি দেয়াল দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্ত করা হয়।
২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দিয়ে ২০১৯ সালে এ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত ভবন হস্তান্তর করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ। অথচ ইতিমধ্যে অধিকাংশ টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন শিশু চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, শিশু হাসপাতালের বহুতল ভবন হস্তান্তরের পর অনেক কাজ করতে হবে।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ প্রস্তুত করা। জরুরী বিভাগ এমনভাবে করতে হবে যেখানে অন্তত ১০ জন শিশুকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া যায়। তাহলে ভর্তিকৃত রোগীর চাপ অনেক কমে আসবে। তাছাড়া নবজাতক শিশুদের জন্য ভিন্ন একটি ওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।

এরপর রয়েছে জনবল। সবচেয়ে প্রয়োজনীয় হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া। বিভিন্ন মাধ্যমে আমি যেটুকু জানতে পেরেছি দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক এনে এখানকার শিশু হাসপাতাল চালু করার কথা রয়েছে সরকারের। এভাবে ধার করে চিকিৎসা দেয়া হলে শিশু হাসপাতাল পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়বে।

২০০ বেডের হাসপাতাল বলা হলেও প্রতিদিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ শতাধিক শিশু এখানে চিকিৎসা নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে।
২০০ বেডের রোগীর জন্য কমপক্ষে ডাক্তার, নার্স, আয়া, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সহ ৬ শতাধিক জনবলের প্রয়োজন হবে। এখন থেকে জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে কাজ না করলে কোনোভাবেই আগস্টে এ হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে না।

শিশুদের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। আইসিইউযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স দেয়ার বিষয়টি সরকারের চিন্তা করতে হবে। তাছাড়া শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রয়োজন রয়েছে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতির।

এই শিশু হাসপাতালটি চালু হওয়ার সাথে সাথে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে শুরু করে পদ্মার এপারের আরো পাঁচ জেলার শিশুদের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে বরিশাল শিশু হাসপাতাল। সে ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত রোগীর চাপও বাড়তে থাকবে। সেখানে ধার করে চিকিৎসক এনে কোনভাবেই হাসপাতালটি পরিচালনা করা যুক্তিযুক্ত হবে।

এই চিকিৎসক আরো বলেন, এরপর রয়েছে প্রতিদিনের তিন থেকে চার বেলার খাবার। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন রোগের জন্য সরকার থেকে বিনামূল্যে ঔষধ দিতে হবে। এ সকল কিছুর প্রস্তুতি আমরা দেখছি না। এ কারণে আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বরিশালের শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম।

একই ধরনের কথা বলেছেন নগর চিন্তাবিদ রফিকুল আলম ও কাজী মিজানুর রহমান।

তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবন হস্তান্তর সহ বাকি যে সকল কাজ রয়েছে তা সম্পন্ন করতে হবে। সাথে জনবলের নিয়োগ প্রক্রিয়াও সামনে এগোতে হবে। ধার করা জনবল দিয়ে এ ধরনের হাসপাতাল পরিচালনা করা সঠিক হবে না বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুল মোনায়েম সাদ বলেন, পূর্বে শিশু হাসপাতাল পরিচালনার জন্য শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এক নির্দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ দায়িত্ব বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের উপর দেয়া হয়েছে। কি ধরনের জনবল লাগবে কি কি করা প্রয়োজন তা বিভাগীয় দপ্তর থেকে পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
১৭ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে এক পত্রে জানানো হয় ‘বরিশাল শিশু হাসপাতালের ভবন গ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন, পদ সৃজন, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কাজ সমন্বয় এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে হাসপাতাল চালু করবে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডঃ মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শিশু হাসপাতাল পরিচালনার দায়িত্ব বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের উপর অর্পণ করা হয়েছে। তার জানামতে বরিশাল শিশু হাসপাতাল ভবন এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। তবে শিশু হাসপাতালের সব বিষয়েই সিভিল সার্জন দেখভাল করছেন।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডাক্তার এস এম মঞ্জুর এ এলাহী বলেন, এখন পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিশু হাসপাতালের ভবন হস্তান্তর করেননি। তারমধ্যে বহু কাজ বাকি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমার জানামতে চিকিৎসক আসবেন বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে। কি পরিমাণ জনবল লাগবে সে বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর তালিকা প্রেরণ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। প্রয়োজন সংখ্যক নার্স নিয়োগে অন্য আরেকটি দপ্তর ব্যবহার করতে হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম বলেন, বর্তমানে অস্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ এর থ্রি ফেজ সংযোগ প্রদান এর মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে শিশু হাসপাতালটি। শুধুমাত্র জল ছাদ এবং বহিঃস্থ বিদ্যুৎ (সাবস্টেশন এবং জেনারেটর) এর কাজ বাকি আছে যা জুনের মধ্যে সমাপ্ত হবে।