ঢাকামঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কি জীবিত না মৃত? সাহারা মরুভূমির ভাইরাল ছবির নেপথ্য সত্য

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মার্চ ৩, ২০২৬ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৩৮

নিউজ ডেস্ক :: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র জল্পনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ‘জীবিত’ থাকার দাবি করে কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে। তবে, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খামেনির সাহারা মরুভূমিতে অবস্থানের দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।

সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দাবি করা হচ্ছে যে, আয়াতুল্লাহ খামেনি বর্তমানে সাহারা মরুভূমিতে অবস্থান করছেন এবং তিনি জীবিত আছেন। কিন্তু ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, ওই ছবিটি বর্তমান সময়ের নয়; বরং এটি ২০১৪ সালের একটি পুরনো ছবি। বর্তমান পরিস্থিতির সাথে এই ছবির কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণও এই দাবির সপক্ষে পাওয়া যায়নি। ফলে বিশেষজ্ঞরা এটিকে নিছক ‘অপপ্রচার’ বা ‘মিসইনফরমেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

 

ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও শোক ঘোষণা: ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘প্রেস টিভি’ এবং সরকার সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো খামেনিকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শিয়া রীতি অনুযায়ী মৃত্যুপরবর্তী ৪০ দিন শোক পালনের অংশ হিসেবে তেহরানের বিভিন্ন চত্বরে শোকাতুর মানুষের ঢল নেমেছে এবং সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, খামেনিকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের কয়েক মাসের যৌথ গোয়েন্দা তৎপরতার ফল। স্যাটেলাইট ডাটা, সাইবার নজরদারি এবং মানব সূত্রের সমন্বয়ে তেহরানের একটি সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইরান পাল্টা পদক্ষেপ নিলে আরও বড় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

খামেনির মৃত্যুর খবরের পর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইন্টারনেটে ২.৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই সংক্রান্ত বিষয়ে মিথস্ক্রিয়া করেছেন। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও; জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

ভবিষ্যৎ ও উত্তরাধিকার: ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা খামেনির বিদায়ে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এখন ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য পরিবেশের কারণে ফরেনসিক প্রমাণ বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো স্বতন্ত্র যাচাইকরণের অভাব এখনো রয়ে গেছে, যা সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে।