ঢাকামঙ্গলবার , ৩ মার্চ ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ গাছে আতঙ্কে কলাডেমা : ১৫ বছরেও উদ্যোগ নেই মালিকদের

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
মার্চ ৩, ২০২৬ ২:২০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৩৮১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কলাডেমা এলাকায় সড়ক সংলগ্ন কয়েকটি বৃহদাকৃতির হেলে পড়া গাছকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, কাজী মতিয়ার রহমান, কাজী বাচ্চু, কাজী সাগর, কাজী খোকন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলোর গোড়ায় পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় সেগুলো ভারসাম্য হারিয়েছে এবং ঝড়-বৃষ্টি কিংবা ভূমিকম্পের সময় ভেঙে পড়ে পাশের বসতঘর, বানিজ্যিক গোডাউন, সড়কবাতি ও বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়তে পারে। এতে অনেক লোকের প্রাণহানি ও সরকারি অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে একই স্থানে তাদের দুটি গাছ ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ লাইন ও সড়কবাতির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে বহু পরিবার কয়েকদিন বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। ঐসময় সিটি করপোরেশন থেকে গাছগুলো কেটে ফেলার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়ে ছিলো। এবিষয়ে জানতে চাইলে গাছ ও জমির মালিকরা জানায়, ভালো দামে গাছগুলো বিক্রি করতে ক্রেতা পাওয়া যায়নি। তাই দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরেও ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জমি ও গাছের অন্যতম মালিক কাজী মতিয়ার রহমান বলেন, “ গাছের ভাল দাম পেলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।” তবে কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেওয়া হবে -এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলেননি। তার ছেলে কাজী মঈন বলেন, “আমি পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বারবার বলেছি। কিন্তু আমার বাবা-চাচারা কিছু না করলে আমি কি করবো? কাজী বাচ্চু বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।” অন্যদিকে কাজী খোকন বলেন, আমার বড় ভাই কাজী মতিয়ার রহমান কে বলেন। আমাদের পরিবারে তিনিই সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। একই সুরে কাজী সাগর বলেন, “গাছগুলো শুধু আমার একার নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মালিকানা রয়েছে। তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয় না।” স্থানীয় ভুক্তভোগী কাজী রাসেল বলেন, এলাকার মানুষ কাজী বাড়ি সড়ক দিয়ে আতংকে চলাচল করে। একাধিকবার আমি নিজেই অল্পের জন্য প্রানে বেচে গেছি। রাস্তার পাশের মেহগনি গাছের ফল আমার একহাত সামনে পরেছে। আমার টিন শেড স্থাপনার উপর বড় বড় মেহগনি ফল পরার কারনে ভাড়াটিয়ারা দিন রাত আতংকে থাকে। প্রচন্ড শব্দের কারনে তারা গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে লাফিয়ে ওঠে। তাদের গাছের কারনে আমার কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের বারবার সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু তারা বিষয়টি আন্তরিক ভাবে বিবেচনা করেনি। গাছের মালিকরা জনগনের জান ও মালের প্রতি সামান্যতম মানবিক আচরন করছে না। দীর্ঘ ১৫/১৬ বছরেও তারা মানুষের জানমাল রক্ষায় কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তাই আমার ও এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষা করতে এবং বিগত দিনে আমার অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণের জন্য শীগ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। স্থানীয় বাসিন্দা কাজী তুহিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তাদের অত্যাচারে সবার মতো আমরাও অতিষ্ঠ। আমার বসতবাড়িও তাদের গাছের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহুবার সহযোগিতা চেয়েছি। এলাকার গণ্যমান্য লোকজনদের বারবার সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু তাদের পরামর্শও শোনেনি। বরং তারা সমাধানের পরিবর্তে আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং নানাভাবে হুমকি দিয়েছে। বিষয়টি এলাকার সবাই জানে।” একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তারা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন। কখনো কখনো মারধর করতেও চেষ্টা করে। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।” স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী জননিরাপত্তা বিঘœকারী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা অপসারণে সিটি করপোরেশনের আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রানহানী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট দফতর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিবে।