ঢাকাশনিবার , ২৭ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ৬০ ঘর, সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদকের আখড়া!

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ২৭, ২০২৬ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিউজ ডেস্ক :: গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ৬০ ঘর, সন্ধ্যা নামলেই বসে মাদকের আখড়া!

 

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আকোটের চর গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ৬০টি ঘর এখন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই এসব ঘরে বসে ইয়াবা ও গাঁজার আসর। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা। মাদক কারবারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুচ্ছগ্রামের মোট ১৬০টি ঘরের মধ্যে প্রায় ১০০টিতে পরিবার বসবাস করছে। বাকি ৬০টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ তদারকির অভাবে এসব ঘরই এখন মাদকসেবী ও কারবারিদের নিয়মিত আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাদকসেবীরা এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে জড়ো হন। শুধু স্থলপথ নয়, পদ্মা নদীর বিভিন্ন চর এলাকা থেকেও নৌকাযোগে তাদের যাতায়াত রয়েছে। নদীপথ ব্যবহার করে সহজেই মাদক আনা-নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের ধারণা, নদীপথে ঢাকা জেলার দোহারসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও মাদক এ অঞ্চলে প্রবেশ করছে

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ইসলাম শেখ বলেন, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে পরিত্যক্ত ঘরগুলোতে মাদক সেবন করেন। নিরাপত্তার কারণে গ্রামের মানুষ ওইদিকে যেতে ভয় পায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আম্বিয়া বেগম বলেন, সন্ধ্যা হলেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছেলে-মেয়েদের বাইরে যেতে দিই না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব আসরে মূলত ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করা হয়। এর ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকদের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি, মারামারি ও অন্যান্য অপরাধও বাড়ছে বলে তাদের দাবি।

আকোটের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসলাম ব্যাপারী বলেন, গুচ্ছগ্রামের পরিত্যক্ত ঘরগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। বিষয়টি মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার তুলে ধরেছি। নিয়মিত অভিযান চালানো হলে সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।