ঢাকাMonday , 3 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারীরা স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ ও পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়েতে বাধা দেওয়া যাবে না : ভারতীয় হাইকোর্ট

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ, নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে কিংবা নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারীর স্বাধীনতায় কেউ বাধা দিতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে উত্তর প্রদেশ সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দুই বোনের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট তলব করেছেন আদালত।

রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিব্যা ভাটিয়া (বর্তমানে জোয়া দিয়া ভাটিয়া) এবং অংশু ভাটিয়া (বর্তমানে আমিনা অংশু ভাটিয়া) নামে দুই বোনের করা একটি হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈন এ মন্তব্য করেন। আবেদনে দাবি করা হয়, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন।

আদালত বলেন, দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তারা নিজেদের ধর্ম, জীবনসঙ্গী, বসবাসের স্থান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার রাখেন।

পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে বাবা বা অন্য কারও হস্তক্ষেপ সংবিধান স্বীকৃত মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, গোপনীয়তা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।

আবেদনে আরও বলা হয়, দুই বোন বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দুই ব্যক্তিকে বিয়ে করতে চান। এ কারণে তাদের বাবা স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সহায়তায় তাদের অবৈধভাবে আটকে রেখেছেন এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দিচ্ছেন না।

তবে আদালত বলেন, এই পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দুই নারী প্রকৃতপক্ষে নিজের ইচ্ছায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না এবং তারা কোনো ধরনের বেআইনি আটক বা চাপের মধ্যে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করা।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, নথিপত্র থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দুই নারী স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আগামী ৬ আগস্ট দুই নারীকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেদিন তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আদালত জানতে চাইবেন, তারা স্বেচ্ছায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না এবং বর্তমানে তারা আইনসম্মত হেফাজতে আছেন কি না।

একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত দিনে দুই নারীকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিল করতে হবে। সেখানে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কেন তাদের হাজির করা যায়নি এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।