
বাউফল প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ফ্যাসিস্ট দোসররা বহাল তবিয়তে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নীতিমালায় রয়েছে ডিলার পরপর দুই মাস নির্ধারিত তারিখের মধ্যে উপযুক্ত কারণ ব্যতিত খাদ্যশস্য উত্তোলন করতে ব্যর্থ হলে ডিলারশিপ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু বাউফলে ৫/৬ মাস ডিলার খাদ্যশস্য উত্তোলনে ব্যর্থ হলেও এ নীতিমালার তোয়াক্কা করেন না অসাধু খাদ্য কর্মকর্তা নুরুল্লাহ।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাউফলে দুইটি খাদ্য গুদাম রয়েছে- একটি বগা খাদ্য গুদাম অপরটি কালাইয়া খাদ্য গুদাম। বগা খাদ্য গুদামে ২০২৬ সনে আমন চাল সংগ্রহ করা হয় মেসার্স সোনাই অটো রাইস মিল কালিশুরী, প্রোপ্রাইটর স্বপন চৌধুরীর মাধ্যমে। সেখান থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে নি¤œমানের চাল সংগ্রহ করা হয় এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও বাউফল উপজেলায় খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি উপকারভোগীদের মাঝে চাল সরবরাহ করা হয় ফ্যাসিস্ট আমলের খাদ্য বান্ধব সহায়তা কার্ডে। যার শ্লোগান ছিল ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিয়ম করেন উপকারভোগীদের কাছ থেকে শেখ হাসিনার শ্লোগান সম্বলিত পুরাতন কার্ড তুলে এনে বিনামূল্যে নতুন কার্ড সরবরাহ করা হবে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ বাউফলের ২০/২২ হাজার কার্ড পরিবর্তনের নাম করে প্রতিটি কার্ড থেকে ২০০-৩০০ টাকা হাতিয়ে নেন। তাতে কোটি টাকার উপরে বাণিজ্য হয়। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বগা-কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে নি¤œমানের চাল বাউফল উপজেলা ডিলারগণের কাছে সরবরাহ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট দোসরদের দিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যাদের লাইসেন্স নবানয়ন নাই তাদের মাধ্যমে চাল বিতরণে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আভাস মিলছে।
সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট দোসররা পালিয়েছে। যার কারণে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের স্থলে অন্যলোকের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করে আসছে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ফ্যাসিস্ট দোসররা এলাকায় ফিরে এসে বাউফলে খাদ্য অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ ঘুষখোরদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে স্বপদে বহালের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। বাউফলে ১৩ জন ফ্যাসিস্ট দোসর একতাবদ্ধভাবে খাদ্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তারা হল- বাউফল ইউনিয়নে বিনা ও শাহজাহান, নাজিরপুর ইউনিয়নে সেলিম, মদনপুরা ইউনিয়নের মোতাহার, আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মৃধা, ১৪ নং নওমালা ইউনিয়নের কৃষক লীগ সভাপতি মোঃ চান মিয়া মৃধা, ১ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ওয়াহেদ খান, ২ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সহসভাপতি নুর ইসলাম গাজী।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গ্রামীণ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ভোক্তাদের অধিকার (ন্যায্য মূল্যে ও পুষ্টিকর খাদ্য পাওয়া) রক্ষা করা।

