ঢাকাশনিবার , ২০ জুন ২০২৬

বরিশালে দুই সরকারি হাসপাতালে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি কষ্টে রোগীরা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ২০, ২০২৬ ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

বরিশালে দুই সরকারি হাসপাতালে লোডশেডিং, বাড়ছে ভোগান্তি কষ্টে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন পাঁচতলা ভবনটি মেডিসিন ওয়ার্ড নামে পরিচিত। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের বর্ধিত এই ভবনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। আছে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। অবকাঠামো ত্রুটির কারণে ভবনটিতে বাইরের আলো-বাতাস প্রবেশ করে না বললেই চলে। ফলে তীব্র গরমের মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকলে এখানে অবস্থান করা কঠিন। তারপরও রোগী ও স্বজনদের দিনের বিভিন্ন সময় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।

নগরের আরেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রোগী ও স্বজনরা জানান, গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে নির্ঘুম কাটাতে হয়। অনেকে ওয়ার্ড ছেড়ে বারান্দায় কিংবা খোলা মাঠে বসে থাকেন।

দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা জানান, শেবাচিম হাসপাতালের নতুন ভবন এবং জেনারেল হাসপাতালে জেনারেটর নেই। শুধু এক ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে।

এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটে বরিশালে দুর্ভোগ চলছে। প্রতিটি ফিডারে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী কমপক্ষে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

গত বুধবার বিকেলে জেনারেল হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে রোগী ও তাদের স্বজন হাঁসফাঁস করছেন। হাতপাখার বাতাসে স্বস্তি খুঁজছেন। প্রধান ভবনের নিচতলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ঢুকে বিদ্যুৎ প্রসঙ্গ তুলতেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রোগী আব্দুল ওহাব বলেন, ‘আমারে প্রধানমন্ত্রীর ফোন নম্বরটা আইনন্যা দেন। আমি ফোন দিয়ো বিদ্যুতের কতা কমু।’ বিদ্যুতের এই সংকট নিয়ে রোগী-স্বজন সবাই ক্ষোভ ঝেরেছেন।

তারা জানান, নগরের অন্য এলাকার মতো এই হাসপাতালেও প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। লোডশেডিং থাকে কমপক্ষে এক ঘণ্টা। এক রোগীর স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, ‘রাইত যত বাড়ে-বিদ্যুৎ অত বেশি যায়’।

জেনারেল হাপসাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মলয় কুমার বড়াল সমকালকে জানান, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জেনারেটর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, এটি আর সচল করা সম্ভব নয়।

শেবাচিম হাসপাতালের চিত্র

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের ফিরোজ আলম তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য গত শুক্রবার থেকে শেবাচিম হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় আছেন। তাদের কক্ষে ২৫ শয্যা। ফিরোজ জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে না। বিদ্যুতের জন্য লিফট বন্ধ থাকায় সবাই আরও দুর্ভোগে পড়েন। একই ওয়ার্ডের আরেক রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হলে তিনিও বিদ্যুৎ নিয়ে ক্ষোভ জানান।

আরিফুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখা, মোমবাতি, মোবাইল ফোনের আলোই একমাত্র ভরসা।

শেবাচিম হাসপাতালের মুখপাত্র সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মুনায়েম সাদ বলেন, আরেকটি ফিডারের সংযোগ চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন ও জেনারেটরের চাহিদাপত্র গণপূর্ত বিভাগে দেওয়া হয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রের বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন। এজন্য সবক’টি ফিডার পালাক্রমে সচল রাখা হয়।