
মো: আম্মার হোসেন আম্মান :: বরিশালে পত্রিকার আদলে ভুয়া পেজের ছড়াছড়ি, বিবেকের কাঠগড়ায় প্রকৃত সাংবাদিকরা : হয়রানির শিকার পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা
অনলাইন সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে গুজব, অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ; ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে অপকর্মে ক্ষুণ্ন হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা, কার্যকর নজরদারি ও তদন্তের দাবি।
বরিশালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রের আদলে নাম-লোগো ব্যবহার করে ফেসবুকে একের পর এক পেজ খোলার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাংবাদিকতার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে সম্পৃক্ত নন—এমন কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মতো নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব পেজের আড়ালে গুজব ছড়ানো, সংবাদ বিকৃত করা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সামনে আসছে।
অভিযোগগুলো সত্য হলে তা কেবল সাংবাদিকতার নীতিমালার লঙ্ঘন নয়; বরং সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার, ব্যক্তির সম্মান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও গুরুতর হুমকি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কথিত এসব অপতৎপরতার দায় অনেক সময় বহন করতে হচ্ছে পেশাদার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় কেন প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর বর্তাবে?
পত্রিকার নাম-লোগোর আদলে ভুয়া পেজ খুলে সম্পাদক পরিচয়ে নানা অপকর্ম, টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড বিক্রির অভিযোগ, গাড়ি-বাইকে ‘প্রেস’ লেখা স্টিকার ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা—ভুয়া সাংবাদিকতার আড়ালে কারা করছে এসব? সাধারণ মানুষ আসল-নকলের পার্থক্য বুঝতে না পেরে বিভ্রান্ত হচ্ছে, আর অপকর্মের দায় গিয়ে পড়ছে পেশাদার ও প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর; ভুয়া পরিচয়ধারীদের দৌরাত্ম্যে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা, কলঙ্কিত হচ্ছে গণমাধ্যমের মর্যাদা—এই অপসাংবাদিকতার লাগাম টানবে কে, প্রশাসনের নজরদারি কোথায়, আর সাংবাদিকতার নামে প্রতারণা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে?
সংবাদমাধ্যমের আদলে পেজ, পরিচয়ের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন
ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারের সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কাও। বরিশালে ফেসবুককেন্দ্রিক কিছু পেজের নাম, লোগো, প্রচারভঙ্গি ও সংবাদ উপস্থাপনার ধরন দেখে সাধারণ পাঠকের পক্ষে প্রকৃত সংবাদমাধ্যম এবং ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত পেজের পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোনো কোনো পেজে সংবাদপত্রের আদলে নাম ব্যবহার, অন্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কাটিং বা স্ক্রিনশট পুনঃপ্রচার এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগমূলক পোস্ট দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব পেজের প্রকৃত পরিচয়, পরিচালনাকারী, নিবন্ধন বা অনুমোদনের অবস্থা এবং প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
একটি ফেসবুক পেজের নামের সঙ্গে ‘নিউজ’, ‘প্রেস’ বা ‘পত্রিকা’ শব্দ যুক্ত থাকলেই সেটি স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম হয়ে যায় না। একইভাবে, সাংবাদিক পরিচয় দাবি করলেই কেউ পেশাদার সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন না। সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভুল হলে সংশোধনের মানসিকতাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
সংবাদ কাটিংয়ের আড়ালে অপপ্রচার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারা?
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো পেজে প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের অংশবিশেষ কেটে বা স্ক্রিনশট ব্যবহার করে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কখনো মূল সংবাদের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে, কখনো অসম্পূর্ণ তথ্যের সঙ্গে নতুন বক্তব্য যুক্ত করে এমনভাবে পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, যাতে পাঠকের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী, সামাজিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের নিয়ে অভিযোগমূলক পোস্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি। কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণ, নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা উচিত। কিন্তু তথ্য যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর সম্মানহানি ঘটানো সাংবাদিকতার দায়িত্বশীল চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
একটি সংবাদকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে উপস্থাপন করা হলে মূল প্রতিবেদনের অর্থ বদলে যেতে পারে। আর সেই বিকৃত উপস্থাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত অবস্থান এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কোনো কোনো ব্যক্তি ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং চাঁদা দাবির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ উঠছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এসব কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই সংবাদ সংগ্রহ বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিকে আইন বা জবাবদিহির ঊর্ধ্বে রাখে না। সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা, নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের হুমকি দেওয়া কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করা হলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ সংগ্রহ, অভিযোগকারীর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পক্ষের ব্যাখ্যা এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমেই সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতেই পারে।
মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ
আরও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অভিযোগ উঠেছে, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিছু ব্যক্তি ফেসবুক পেজ খুলে বা সংবাদমাধ্যমের মতো পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। কেউ মাদক ব্যবসা বা অন্য অপরাধে জড়িত কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
তবে কোনো ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আড়াল করতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করেন, কিংবা সেই পরিচয়ের মাধ্যমে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ এমন অপতৎপরতা একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগ তৈরি করে, অন্যদিকে পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে।
একই সঙ্গে এটিও নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভুয়া সাংবাদিকতার অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে প্রকৃত সাংবাদিকদের হয়রানি করা না হয়। অপরাধের অভিযোগ এবং বৈধ সাংবাদিকতার কাজ—দুটিকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করাই হবে ন্যায়সংগত পদক্ষেপ।
প্রকৃত সাংবাদিকদের বিবেকের প্রশ্ন, মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব কার?
একজন পেশাদার সাংবাদিককে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয় মাঠপর্যায়ে, যাচাই করতে হয় তথ্য, নিতে হয় সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং বহন করতে হয় প্রকাশিত সংবাদের দায়। ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে সংশোধন, প্রতিবাদের সুযোগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার দায়িত্বও তাঁর রয়েছে। অথচ কেউ যদি শুধু একটি পেজ খুলে সংবাদমাধ্যমের মতো নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থে অপপ্রচার চালান, তাহলে সেই কর্মকাণ্ডের দায় প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর চাপানো অন্যায়।
বরিশালের সাংবাদিক সমাজের জন্য বিষয়টি এখন আত্মসমালোচনা ও পেশাগত ঐক্যেরও প্রশ্ন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দেওয়াও দায়িত্বশীল আচরণ নয়। প্রয়োজন প্রমাণভিত্তিক যাচাই, নীতিগত অবস্থান এবং অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ পদক্ষেপ।
পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের নাম, লোগো, পরিচয় ও প্রকাশিত কনটেন্টের অপব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর উচিত অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়া এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মানদণ্ড সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা।
বরিশাল প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির দৃষ্টি আকর্ষণ
বরিশালের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বরিশাল প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং জ্যেষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংবাদমাধ্যমের পরিচয় অপব্যবহারের ঘটনা চিহ্নিত করা, প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সাংবাদিকতার নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি।
প্রয়োজনে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা, সংবাদ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং পেশাগত পরিচয়ের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা মোকাবিলায় সহায়তা মিলবে।
পুলিশ প্রশাসনের প্রতি নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, পরিচয় গোপন করে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি কিংবা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমের নামে পরিচালিত পেজগুলোর পরিচয়, প্রকাশিত তথ্যের সত্যতা এবং অভিযোগের পেছনের প্রমাণ খতিয়ে দেখার ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। কোনো পেজের নাম বা কারও পেশাগত পরিচয় দেখে আগাম সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো তথ্য মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর মনে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পোস্টের লিংক, স্ক্রিনশট, প্রকাশের সময় এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করে আইনগত সহায়তা নিতে পারেন। এতে অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।
সাংবাদিকতা হোক সত্যের পক্ষে, ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ার নয়
সাংবাদিকতা সমাজের দর্পণ। অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা, ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সাধারণ মানুষের সমস্যা প্রকাশ করা এবং সত্যনিষ্ঠ তথ্য পৌঁছে দেওয়া—এসবই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল কাজ। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।
বরিশালে পত্রিকার আদলে পরিচালিত পেজগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখন আবেগ বা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, বরং তথ্য-প্রমাণ, নিরপেক্ষ যাচাই ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। যাঁরা প্রকৃত সাংবাদিক, তাঁদেরও উচিত পেশার মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীতিগত অবস্থান নেওয়া।
প্রশ্ন এখন একটাই—সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি গুজব, হয়রানি কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তাঁকে শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ কবে নেওয়া হবে?
বরিশালের সচেতন নাগরিক, পেশাদার সাংবাদিক, সাংবাদিক সংগঠন এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই পারে সংবাদমাধ্যমের পরিচয়ের অপব্যবহার রোধ করতে, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে।
সাংবাদিকতার পরিচয় নয়, প্রমাণ ও পেশাগত সততাই হোক বিশ্বাসযোগ্যতার মাপকাঠি।

