
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে বিধবা নারী নাবালিকা মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ
দেবরের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় জিডি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবার
নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের পূর্ব বগুড়া রোডের “নাবিলা ম্যানসন” এর একটি বিধবা নারী ও তার ২ নাবালিকা সন্তানকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে অপহরণ, জবরদখল, চুরি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে তারই দেবরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছাঃ ইসরাত জাহান নিপা এর স্বামী মৃত মিজানুর রহমান নবীন [বাকপ্রতিবন্ধী] গত ২৮/০১/২০২৪ ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ নাবালিকা কন্যা সন্তান রেখে যান।
নিপার শ্বশুর মৃত মুজিবুর রহমান ও শাশুড়ী মৃত হেলেনা মুজিব ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রি দলিলমূলে তাদের ৬.০০ শতাংশ ভূমির উপর নির্মিত “নাবিলা ম্যানসন” এর সম্পত্তি ৩ সন্তান ও এক ভাইয়ের মধ্যে বন্টন করে যান। সে অনুযায়ী নিপার স্বামী মিজানুর রহমান নবীন ১.৭৫ শতাংশ সম্পত্তির মালিক ছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, মৃত মিজানুর রহমানের আপন ছোট ভাই মোঃ মাহফুজুর রহমান নয়ন [মোবাইল: ০১৭২৮০৫০] দীর্ঘদিন যাবৎ ওই ১.৭৫ শতাংশ সম্পত্তি জবরদখলের পায়তারা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই ২০২৬ রাত ৮টার দিকে অভিযুক্ত নয়ন নিপার বাসায় এসে তার ১৬ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়ে *নিরফানা রহমান জবা কে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে জোরপূর্বক নিজ হেফাজতে নিয়ে যায়। আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই অদ্যাবধি তাকে আটক রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।একই রাত আনুমানিক ১০টা ৫২ মিনিটে নয়ন পুনরায় বাসায় প্রবেশ করে। এসময় সে ফ্লাটের তালা ভেঙে, সিসি ক্যামেরা খুলে ফেলে এবং আলমারির তালা কেটে নগদ ৩ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজের স্থিরচিত্রও ভুক্তভোগীর কাছে রয়েছে।ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, নয়ন ইতিপূর্বেও তার অংশের একটি ফ্লাট জবরদখল করে অবৈধভাবে ভাড়াটিয়া বসিয়ে ভাড়া আত্মসাৎ করছে। যার লিখিত অভিযোগ তিনি আগেই থানায় দিয়েছেন।আজ নিজ বাসায় গিয়ে দেখে তার ফ্লাট বাসার তালা ভেঙে জবরদখল করে বাসার ভিতরে অবস্থান করছে নয়ন, তার উপস্থিতি দেখে তাকে শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করে এবং সাথে থাকা নিপার মা ও দেড় বছরের শিশু সন্তানের উপর হামলা চালায় আজ ১৬ আগষ্ট রবিবার দুপুর ১ নাগাদ সময়ে।
ভুক্তভোগী ইসরাত জাহান নিপা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন”আমি একজন অসহায় বিধবা। আমার ২ নাবালক সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমার দেবর আমার বড় মেয়েকে আটকে রেখে সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মেয়েকে উদ্ধার ও আমাদের জানমালের নিরাপত্তা চাই” – ।এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান নয়নের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”আইনজীবীরা জানান, ১৬ বছরের কম বয়সী নাবালিকা সন্তানের আইনগত অভিভাবক মা। জোরপূর্বক আটক রাখা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

