ঢাকামঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে মহাসড়ক দখলমুক্ত করল বিসিসি, সওজের গাফিলতিতে থমকে উন্নয়ন কাজ

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ৯, ২০২৬ ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ভগ্নাংশ অপসারণ করেছে বিসিসি রাস্তা নির্মাণে সওজের গাফিলতি।

মহাসড়ক এখন পরিচ্ছন্ন ও ঝুঁকিমুক্ত। পথচারীসহ আশেপাশের বাসিন্দারা স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের প্রতি।

 

নগরীর চৌমাথা সংলগ্ন কাজীপাড়া এলাকায় মহাসড়কের ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকা শাহানারা আবদুল্লাহ শিশুপার্কের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলার পর বিষয়টি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে দ্রুত সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী করার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। তবে পার্ক অপসারণ হলেও এই অংশের মহাসড়ক বর্ধিতকরণ কাজ এখনো অনিশ্চয়তায় আটকে রয়েছে। সওজ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া এবং ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক চারলেন নাকি ছয়লেনে উন্নীত হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের কাজীপাড়া এলাকায় নির্মিত অবৈধ শিশুপার্কটি (শাহানারা আবদুল্লাহ) শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ২০১৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তাঁর মায়ের নামে এই পার্কটি নির্মাণ করেন। সিঅ্যান্ডবি রোডে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বাইলেনের জায়গায় এটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছিল সাড়ে ৯ কোটি টাকা। কিন্তু পার্কটির কারণে ওই এলাকায় যানজট বৃদ্ধি ও দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে। তবে সাদিকের প্রভাবের কারণে কেউ এ বিষয়ে কথা বলার সাহস পায়নি।

 

সাদিকের পর তাঁর চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হলে পার্কটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেন। তবে বিসিসি ও সওজের মধ্যে মতপার্থক্যের কারণে কাজটি বাস্তবায়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পার্কটিতে ছাত্র-জনতা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মহাসড়ক দখল করেছিলো এই পার্কটি।
স্থানীয়দের দাবি, পার্কটি নির্মাণের সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে মহাসড়কের সংরক্ষিত ভূমিতে গড়ে ওঠা স্থাপনাটি বছরের পর বছর বহাল থাকে। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও চৌমাথা-কাজীপাড়া অংশে সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি এই পার্কের কারণে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পার্কটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। কিন্তু এরপরও দীর্ঘ সময় ধরে এই ভাঙা অবয়বসহ কংক্রিট, দেয়াল ও অন্যান্য অবকাঠামো মহাসড়কে পড়ে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ-ধ্বংসাবশেষ অপসারণের দায়িত্ব নিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সড়ক বিভাগের মধ্যে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলছিলো। প্রায় দেড় বছর ধরে কেউই কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশটি অব্যবস্থাপনার মধ্যেই পড়ে থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিসিসি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেন। তাঁর নির্দেশনায় সিটি করপোরেশন পার্কটির অবশিষ্ট ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে মহাসড়কের জায়গা উন্মুক্ত করে দেয়। এ উদ্যোগে কাজীপাড়া, চৌমাথা ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, পার্কটি শুধু সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেই নয়, সাধারণ মানুষের সড়ক পারাপার, ফুটপাত ব্যবহার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে ব্যস্ততম চৌমাথা এলাকায় পার্কের দেয়াল ও অবকাঠামোর কারণে পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে।

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয়লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা কয়েক বছর আগে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়ককে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে সরকারি মহল থেকে ছয়লেনের মহাসড়ক নির্মাণের ঘোষণা এলেও এখনো প্রকল্পটির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এ অবস্থায় বরিশালে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠন ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক দ্রুত ছয়লেনে উন্নীত করা, বরিশাল বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন, সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, মহাসড়কের জন্য নির্ধারিত ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়ার কারণেই আজকের এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বরিশালের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক এবং প্রস্তাবিত বাইপাস সড়ক দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে যানজট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের উন্নয়ন পরিকল্পনা এখনো চলমান রয়েছে। ভাঙ্গার পর বিভিন্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণ জটিলতা দেখা দেওয়ায় প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে সময় লাগছে। তিনি বলেন, “আগামী বাজেটে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাশাপাশি গড়িয়ারপাড় থেকে বরিশাল বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।”

অবৈধ পার্কের ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বাধা দূর হলেও নগরবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই-মহাসড়ক সম্প্রসারণের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে চৌমাথা-কাজীপাড়া অংশকে পূর্ণাঙ্গভাবে যান চলাচলের উপযোগী করা হোক। দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াতের সঙ্গে জড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আর যেন অনিশ্চয়তার জালে আটকে না থাকে এ দাবী বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ বরিশালবাসীর।