ঢাকাশনিবার , ১৮ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ১৮, ২০২৬ ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৮

ফজলে রাব্বি :: ‘জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বরিশালে গভীর শ্রদ্ধা, ভাবগম্ভীর পরিবেশ ও যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণসভা এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মীর মুগ্ধসহ আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর সন্তানকে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরকাল প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদকবৃন্দ , কলেজের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান বলেন, “জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মীর মুগ্ধসহ যারা দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের ঋণ কোনো দিন শোধ করা সম্ভব নয়। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের সত্য, ন্যায়, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের পথে অবিচল থাকার শক্তি জোগায়। নতুন প্রজন্মকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষায় নয়, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শহিদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার সর্বোত্তম উপায় হলো তাঁদের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করা।”
বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা বলেন, “জুলাইয়ের শহিদরা নিজেদের জীবনের বিনিময়ে জাতিকে নতুন করে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে শিক্ষকদের আরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, “জুলাইয়ের শহিদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মীর মুগ্ধসহ সকল শহিদের আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায়, বৈষম্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শক্তি জোগায়। আমরা তাঁদের আদর্শকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।”
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই শুধু একটি মাস নয়; এটি আত্মত্যাগ, সাহস, গণমানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং নতুন বাংলাদেশের প্রত্যয়ের প্রতীক। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের ইতিহাস, শহিদদের আত্মত্যাগ ও তাঁদের আদর্শ তুলে ধরা সময়ের দাবি।
স্মরণসভা শেষে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ সকল বীর সন্তানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় শহিদদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে উপস্থিত সবাই জুলাই শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।