
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ঠিকাদারদের বিল না দিয়ে আত্মসাৎ এবং উল্টো তাঁদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে।
তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারবাজিতে সহায়তা করে কমিশন আদায় এবং সরকারের মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে কোটি কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, ক্যান্সার হাসপাতাল, দুর্গাসাগর ট্যুরিজম,
সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমুর ‘পালিত পুত্র’ পরিচয়ে লুটপাট, পটপরিবর্তনের পর বিএনপির সাথে আঁতাত করে চলছে কমিশন ও ভুয়া ভাউচার বাণিজ্য, ঠিকাদারকে না জানিয়ে বিল উত্তোলন করে আত্মসাৎ।সার্কিট হাউজ, জেলা প্রশাসকের বাসভবন মেরামত, এনএসআই ভবন, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল এবং সদর মডেল মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প থেকে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের
প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর ‘পালিত পুত্র’ পরিচয়ে বরিশালের গণপূর্ত বিভাগে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছিলেন রাজাপুরের এই বাসিন্দা। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বর্তমানে বিএনপি-পন্থী কিছু ঠিকাদারকে ম্যানেজ করে একইভাবে কমিশন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।প্রকল্পের অর্থ হরিলুট ও জালিয়াতি, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকার যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ করেছিল, গত ৫ আগস্ট সরকার
পতনের পর, সেই বরাদ্দের অর্থ বিএনপি-পন্থী ঠিকাদার ও অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে লুটপাট করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে বরিশাল ছাড়া করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল
Ghumer Medicine Tablet।। ঘুমের ঔষধের নাম সহ দাম(১১০টি)আলম ও তাঁর বাহিনী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রায় ১০০টিরও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাস্তবায়ন না করে হরিলুট করা হয়েছে। ‘সময়ের বার্তা’র হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ওটিএম পদ্ধতির ২৭টি এবং আরও ৭১টি মিলিয়ে মোট ৯৮টি টেন্ডার আইডির।
অনুকূলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে অনেক কাজ আংশিক করে বা একদম না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। কিছু ঠিকাদার কাজ শেষ করলেও বিল পাননি, অথচ কাগজে-কলমে সেই অর্থ উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার আল-মামুনের
ঘটনা ও আইনি জটিলতা, মামুন সময়ের বার্তাকে জানান, তিনি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর আওতায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের উন্নয়নমূলক সংস্কার বাবদ ১১১৪৩৫১ আইডির অনুকূলে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭শত ৯১ টাকার কাজ সম্পন্ন করেও বিল পাননি। মামুনের বিল না দিয়ে, অর্থআত্মসাতের চেষ্টা করে আসছেন। কাজ সমাপ্তি করে বিল না পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফয়সাল আলম, হিসাব রক্ষক মো: আলমগীর হোসেন,
ক্যাশিয়ার মো: মঞ্জুর কাদির ও হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপকের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দেন ভূক্তভোগী ঠিকাদার মামুন। ১১ নভেম্বর দেওয়া, লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স গাজী বিল্ডার্স, প্রোপাইটর মো: আল মামুন বরিশাল গণপূর্ত অফিস এর মাধ্যমে বরিশাল শের-ই-বাংলা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড এবং কিডনী ডায়ালাসিস ওয়ার্ডের সংস্কার কাজ, এ ব্লকের এসি কেবিন নং ৩৪.৩৫ বিশেষ সংস্কার সহ আনুসাঙ্গিক কাজ এর টেন্ডার ইজিপির মাধ্যমে প্রাপ্ত হন। যাহার ইজিপি টেন্ডার আইডি নং-১১১৪৩৫১, প্রাক্কলিত মূল্য ১৯ লাখ ৯৭ হাজার ৮০ টাকা এবং দরপত্র মূল্য ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯১ টাকা চুক্তিপত্র নং ৭০। কাজটি সর্বনি¤œ দরপত্রদাতা হিসেবে তিনি ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭শত ১২ টাকায় কাজ মামুন পেয়ে সম্পন্ন করেন।
নোটিশ প্রাপ্তির পর নির্বাহী প্রকৌশলী ফলসাল আলম লিগ্যাল নোটিশের জবাবে বলেন, র্নিধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না করায়, তার বিলটি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের হিসেবে জমা রাখা হয়েছে। পরিবর্তীতে বরাদ্দ পেলে পরিশোধ করার অঙ্গিকার করেন। তবে এর কিছুদিন পরে গণপূর্তর ঢাকা সদর দপ্তর থেকে এবিষয় জানাতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম লিখিত পত্রের মাধ্যমে দাবী করেন, ঠিকাদার মামুনের
নিয়োজিত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। মামুনের দাবী, তিনি কোনো প্রতিনিধি নিয়োগ দেন নাই। নির্বাহী প্রকেীশলী ফয়সাল আলম জাল-জালিয়াতি করে, কাজের বিলের টাকা আত্মসাত করেছেন। গাজী বিল্ডার্স-এর স্বত্বাধিকারী আল-মামুন বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অধীনে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকার একটি কাজ সম্পন্ন করেও বিল পাননি। উল্টো তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে এবং তাঁর লাইসেন্স কালোতালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। আল-মামুন আইনি নোটিশ প্রদান করলে ফয়সাল আলম প্রথমে স্বীকার করেন যে অর্থবছর
কি খেলে দীর্ঘ সময় সহবাস করা যায়শেষ হওয়ায় বিলটি দপ্তরে জমা আছে। কিন্তু পরবর্তীতে সদর দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করে দাবি করেন যে, আল-মামুন তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে চেক বুঝে নিয়েছেন। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে সেই বিল উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। দুর্নীতির মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ সব সরকারি স্থাপনা নির্মাণে ফয়সাল আলমের
সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। মালামাল ক্রয় এবং নির্মাণশৈলীতে ব্যাপক অনিয়ম করেও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমুর প্রভাবে পার পেয়ে গেছেন তিনি। এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে: গণপূর্ত‘র নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ফয়সাল আলম, হিসাব রক্ষক মো: আলমগীর হোসেন,ক্যাশিয়ার মো:
মঞ্জুর কাদির এবং হিসাব সহকারী আবুল হাসান রুপক, ঢাকার আওয়ামীলীগ নেতা জিকে শামীমের ব্যবসায়ী পার্টনার আওয়ামীলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে কাশি মিজান। অভিযুক্তরা দম্ভ করে বলছেন, “সংবাদ প্রকাশ করে কিছুই হবে না, বর্তমানে বিএনপিকে ম্যানেজ করেই সবকিছু করা হচ্ছে।”
ভোক্তভোগী ঠিকাদার আল-মামুন এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গণপূর্ত বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি তাঁর পাওনা বিল উদ্ধারসহ এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।


