ঢাকাSaturday , 15 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে কাউন্সিলরের দায়িত্বে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, ভোগান্তিতে নগরবাসী

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭৯

হেলাল উদ্দিন :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্বে রয়েছেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ১৬ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, উপ-পুলিশ কমিশনার, শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পোর্ট কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এসব কর্মকর্তার ওপর নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক বা একাধিক ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্বও রয়েছে। ফলে নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। নগরবাসীর অভিযোগ, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর দেওয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় বিরোধ মীমাংসা, ছোটখাটো সমস্যা সমাধানসহ নানা কাজে নিয়মিত সময় দিতে হয়। কিন্তু সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পক্ষে একই সঙ্গে নিজ দপ্তরের দায়িত্ব সামলে ওয়ার্ডের জনগণকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে কাউন্সিলরের সেবা পেতে গিয়ে অনেকেই দিনের পর দিন ঘুরছেন। ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী হামিদ জানান, জরুরি প্রয়োজনে তাকে দেশের বাইরে যেতে হবে। এ জন্য পাসপোর্ট করতে একাধিক কাগজপত্রে কাউন্সিলরের স্বাক্ষর প্রয়োজন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরকে ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ওয়ার্ড সচিবের কাছে গিয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তার। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন আইনজীবী আঃ মালেক বলেন, তার ছেলে চাকরিতে আবেদন করবে। এ জন্য কাউন্সিলরের দেওয়া একটি পরিচয়পত্র প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ১০ দিন ঘুরেও পরিচয়পত্র না পাওয়ায় তার ছেলে চাকরির আবেদন করতে পারেনি।

এ ধরনের অভিযোগ প্রতিনিয়ত নগরবাসীর কাছ থেকে আসছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর নয়, স্থানীয় বিভিন্ন সালিশ-বিচার ও ছোটখাটো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও কাউন্সিলরের প্রয়োজন হয় বলে জানান নগরীর একাধিক বাসিন্দা।
তিনি বলেন, “নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এমন কাউকে কাউন্সিলরের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যিনি জনগণকে নিয়মিত সময় দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে যাকে সহজেই পাওয়া যাবে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অনেককেই প্রয়োজনের সময় পাওয়া কঠিন।”
একাধিক নগরবাসী জানান, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলরদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মধ্য থেকে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাউন্সিলরের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত তাদের। এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার শিরীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিষয়টির সমাধান হয়নি। সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, ১৬ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্তমানে ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলেন সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবীর জাহিদ বলেন, “কাউন্সিলরের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তাদের নিজ নিজ দপ্তরের কাজের শেষ নেই। তারা কীভাবে একই সঙ্গে ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করবেন? এটি তাদের দোষ বা দায়িত্বহীনতা নয়। প্রত্যেক মানুষেরই কাজের একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।” তিনি বলেন, “আমার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে যিনি কাউন্সিলরের দায়িত্বে আছেন, তাকে এখন পর্যন্ত একবারও ওয়ার্ডে আসতে দেখিনি। জনগণ তাদের না পেয়ে আমাদের কাছে আসে। আমরা যতটুকু পারি, সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। কারণ আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য। জনগণকে তো আর এড়িয়ে যেতে পারি না।” মীর জাহিদুল কবীর জাহিদ আরও বলেন, জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ওয়ার্ডের পরিচিত, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের কাউন্সিলরের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে যাদের আগে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে কাউন্সিলরদের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের এখতিয়ার সীমিত বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী। তিনি বলেন, “কাউন্সিলরদের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তবে প্রশাসক মহোদয় দায়িত্ব পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারেন।” নগরবাসীর দাবি, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে এমন ব্যক্তিদের কাউন্সিলরের দায়িত্ব দেওয়া হোক, যারা নিয়মিতভাবে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সক্ষম।