ঢাকাMonday , 26 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ।

 

দেশের পঞ্চম বিভাগীয় সদর বরিশালের ‘মহানগর পুলিশ’ (বিএমপি) প্রতিষ্ঠার দুই দশক পার করলেও এখনো তীব্র জনবল ও যানবাহনসহ নানা সংকটে ধুঁকছে। ব্যাপক জনবল সংকট এই পুলিশ ইউনিটের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে উঠলেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে অনেকটাই উপেক্ষিত বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের। আজ (সোমবার) বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর কেবল ২০০৮ সালে একবারই জমকালো আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে আনন্দ র‌্যালী ও কেক কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নগরবাসীকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল মহানগর পুলিশের অনুমোদিত ২,১৩৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১,৮৫০ জনের মতো। বিশেষ করে শীর্ষ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের পদে চরম শূন্যতা বিরাজ করছে। গত তিন মাসে বিএমপি থেকে ৩ জন উপ-কমিশনারকে (ডিসি) বদলি করা হলেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে এই ইউনিটে দুজন অতিরিক্ত কমিশনারের পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ৮ জন উপ-কমিশনারের কাজ করছেন মাত্র ৩ জন। ১১ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার পদের বিপরীতে আছেন ৪ জন। আর ১৭ জন সহকারী কমিশনার পদের অর্ধেকেরও বেশি পদ এখন ফাঁকা। উচ্চ পর্যায়ের এই শূন্যতার কারণে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক সময়ই দুরুহ হয়ে পড়ছে।
গত দুই দশকে বিএমপি সদর দপ্তর, পুলিশ লাইন্স ও এয়ারপোর্ট থানা ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। অতি সম্প্রতি বন্দর থানা ভবনের কাজ শুরু হলেও কোতয়ালী থানার নতুন ভবনের কাজ চলতি অর্থ বছরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাউনিয়া থানা ভবনের নির্মাণ প্রকল্প এখনো অনুমোদন পায়নি।

সবচেয়ে বড় সংকট দেখা গেছে কমিশনারের আবাসন নিয়ে। প্রায় শত বছরের পুরনো পুলিশ কমিশনারের বাসভবন নির্মাণ প্রকল্প এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে বরিশাল জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের একটি জরাজীর্ণ বাস ভবনে ডিআইজি পদমর্যাদার বিএমপি কমিশনার বসবাস করছেন। এছাড়া রূপাতলী এলাকায় ২৫ একর জমির ওপর পুলিশ লাইন্স নির্মিত হলেও তা মহানগরীর একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায় জরুরি মুহূর্তে ‘ফোর্স মুভমেন্ট’ করতে অনেক সময় লেগে যায়।
নগরীতে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা ও যানবাহন বাড়লেও ট্রাফিক বিভাগের সীমাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলো এখন অবৈধ রিকশা, ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা ও আলফার মতো বেপরোয়া থ্রি-হুইলারের দখলে চলে গেছে। এসব অবৈধ যানবাহনের অধিকাংশ চালকেরই কোনো লাইসেন্স নেই। হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। নগর প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় না থাকায় যানজট অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যার ফলে পথদুর্ঘটনা এখন এই নগরীর নিত্যদিনের নিয়তি।

শুরুতে কেবল কোতয়ালী থানা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিএমপির অধীনে থানার সংখ্যা ৪টি। তবে কোনো থানাতেই চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন নেই। ফলে রাতের বেলা টহল দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নগরীতে আরও অন্তত ৩টি নতুন থানা গঠন করা জরুরি। এর মধ্যে রূপাতলী-কালিজিয়া ও জাগুয়া এলাকা নিয়ে একটি, এয়ারপোর্ট থানাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থেকে কড়াপুর পর্যন্ত একটি এবং চরমোনাই ইউনিয়ন ও সন্নিহিত এলাকা নিয়ে আরেকটি থানা স্থাপন করা প্রয়োজন।
নানা সংকটের মধ্যেও স্বস্তির খবর হলো, জুলাই বিপ্লবের পর টানা ১৫ দিন পুলিশি কার্যক্রম স্থবির থাকলেও নগরীতে বড় কোনো আইনশৃঙ্খলা সংকট তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক বজায় রয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত শহর থেকে সহস্রাধিক সন্দেহভাজন ও বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে বড় একটি অংশ মাদক মামলার আসামি। মাদক আস্তানা হিসেবে পরিচিত কেডিসি বস্তিসহ বেশ কয়েকটি এলাকার আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএমপির ২২তম কমিশনার আবু রায়হান মোঃ সালেহ সার্বিক বিষয়ে জানান, “সংকট ও সমস্যা থাকবেই, তবে তার মাঝেই আমরা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেশের যেকোনো মহানগরীর চেয়ে বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো। আমরা একটি জনবান্ধব পুলিশ ইউনিট গড়ে তুলতে চাই। মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বরিশাল মহানগরীর ওয়াপদা কলোনী মাঠে তৎকালীন সিটি মেয়র ও সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার বিএমপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন।