
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল সিটিতে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পদোন্নতির পরই অপপ্রচার শুরু।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে—এমন অভিযোগ এখন সিটি কর্পোরেশনের ভেতর-বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মে সহযোগিতা না করায় তাকে চাপে রাখা, বিতর্কিত করা এবং শেষ পর্যন্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী।
জানা গেছে, মো. হুমায়ুন কবির ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময়ে প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি দক্ষতা ও সততার পরিচয় দেন। তবে ২০২০ সালে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহ’র সময় এক প্রশাসনিক নোটিশের মাধ্যমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, যা তখন ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
প্রায় চার বছর চাকরিচ্যুত থাকার পর ২০২৪ সালে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয় এবং তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফেরেন। পরবর্তীতে তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ভিত্তিতে তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
কিন্তু এই পদোন্নতির পর থেকেই একটি অসাধু ও সুবিধাভোগী চক্র তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র বলছে, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং সংস্কার কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ওই চক্র একাধিকবার তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। তবে হুমায়ুন কবির স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করার নীতিতে অটল থাকায় তিনি কোনো অনিয়মে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এর ফলেই তিনি ওই চক্রের ‘টার্গেটে’ পরিণত হন।
এরপর থেকেই বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় কিছু পত্রিকায় তাকে ‘আওয়ামী দোসর’, ‘বিতর্কিত কর্মকর্তা’ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ছাড়াই মনগড়া ও একপাক্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে।
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ মে অনুমোদিত ওই সংগঠনের কমিটিতে তার কোনো পদ না থাকা সত্ত্বেও তাকে জোরপূর্বক সংশ্লিষ্ট দেখিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি তাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়রের সময়ে তাকে সংগঠনের সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সংগঠনের কার্যক্রমে অসঙ্গতি ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যকলাপ থাকায় তিনি নিজেই সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে সেই ঘটনাকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিটি কর্পোরেশনের ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানিয়েছেন, মো. হুমায়ুন কবির একজন সৎ, নীতিবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে আপস করেন না এবং অবৈধভাবে কাজ পাইয়ে দিতে কাউকে সহযোগিতা করেন না। মূলত এই সততা ও কঠোর অবস্থানের কারণেই একটি অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
সচেতন নাগরিক মহল মনে করছে, সিটি কর্পোরেশনের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অপপ্রচারে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে এবং সৎ কর্মকর্তারা নিরুৎসাহিত হবেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী ও সচেতন মহল।

