
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা কাজী শাওনকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ি থেকে অপসারণ (ক্লোজড) করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে আকস্মিক এসআই পদমর্যাদার এই কর্মকর্তাকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। অল্প কিছুদিন এই পুলিশ কর্মকর্তা স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে তিনি ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। বিশেষ করে আটক বাণিজ্য এবং আসামি ধরতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে গালিগালাজ করাসহ একাধিক অভিযোগটি জোরালো রূপে পাওয়া যাচ্ছিল। সোমবার রাতে পুলিশ কর্মকর্তা কাজী শাওনকে ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অনেককে স্বস্তিপ্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়া যাচ্ছে, বরিশাল রেঞ্জের সাবেক একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনকে সোমবার রাতে বান্দরোড থেকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে টহল গাড়িতে নিয়ে ঘোরেন এসআই কাজী শাওন। এমনকি তাকে জিম্মি করে মোটা অংকের অর্থও হাতিয়ে নেন। বরিশালের সাবেক ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি বিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবহিত করলে এসআই শাওনকে রাতেই ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
আটক বাণিজ্যের অভিযোগে ক্লোজড হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন এসআই কাজী শাওন। তার দাবি, হঠাৎ করেই বদলি করা হয়েছে। এবং পুলিশের চাকরিটাই এমন, মন্তব্য করেন।
রেঞ্জ পুলিশের সাবেক কর্মকর্তার ভাগিনাকে নিয়ে আটক বাণিজ্য করার অভিযোগে তাকে শাস্তিস্বরূপ ফাঁড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কথা বলতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। এসআই শাওনকে ক্লোজড করার বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মামুন উল ইসলাম স্বীকার করেছেন। কিন্তু কেনো তাকে গভীর রাতে সরিয়ে দেওয়া হলো সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করলেও নাতিদীর্ঘ আলোচনায় প্রত্যাহারের হেতু কি কিছুটা হলেও অনুমান করা গেছে।
বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা শাওনকে সরিয়ে দেওয়ায় ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছেন এএসআই মহিউদ্দিন। এই পুলিশ কর্মকর্তাও সোমবার রাতের বিষয়টি নিয়ে মিডিয়ায় কথা বলতে চাইছেন না।
এই বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত হতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে বিএমপি পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, সোমবার রাতের বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষাপটেই তাকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়। এবং তার বিরুদ্ধে আটক বাণিজ্য করার জোরালো অভিযোগও ছিল।
এসআই শাওন জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই শাস্তিস্বরূপ তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো।’

