ঢাকামঙ্গলবার , ৯ জুন ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জে ষড়যন্ত্রের শিকার সাংবাদিক লিমন : রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুন ৯, ২০২৬ ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১২১

নিজস্ব প্রতিবেদক ::  আজকের ক্রাইম টাইমস পত্রিকার বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি দানিসুর রহমান লিমন (৪২) কে পরিকল্পিতভাবে মোবাইলে ফোন করে বাসায় ডেকে নিয়ে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে আটকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাত পৌনে ৯ টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফেরার পথে মোবাইলে ফোন করে পারিবারিক সমস্যা ও চা খাওয়ানের কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে নিজ স্ত্রীর শ্লিলতাহানির অভিযোগ তুলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি শ্লিলতাহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তবে অভিযোগ রয়েছে বাদী মামলা করতে না চাইলেও থানার ওসি আদিল হোসেন অতি উৎসাহী হয়ে চাপ প্রয়োগ করে মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য করেছেন । মামলা দায়েরের কিছুক্ষন পরেই মামলার বাদী মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন মামলা করতে না চাওয়া এবং আপস মীমাংসার অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করেছেন। আজ মঙ্গলবার তা আদালতে দাখিল করা হবে বলে মামলার বাদি জানিয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি কপি এ প্রতিবেদকের কাছে এসে পৌছে
স্থানীয় সূত্র জানায়, দানিসুর রহমান লিমন রোববার রাত পৌনে ৯ টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরছিলেন। রাত পৌনে ৯ টার দিকে এসময় হিরাধার গ্রামের বসিন্দা জলিল খা লিমনকে চা খাওয়ানোর কথা বলে মোবাইলে ফোন করে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে বেধরক নির্যাতন চালায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরও সাংবাদিক লিমনকে উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সকালে বিষয়টি বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করার পর তার হস্তক্ষেপে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সাংবাদিক লিমনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

স্থানীয় সংবাদ কর্মিদের মধ্যে আভ্যন্তরিন বিরোধ ও প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার জের ধরেই তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এমন ঘটনা ঘটোনো হয়েছে বলে দাবী ভুক্তভোগী সাংবাদিক লিমনের। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় একটি শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। জনৈক জাহাঙ্গির খান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে বাদী মামলা করতে না চাইলেও থানার ওসি আদিল হোসেন অতি উৎসাহী হয়ে চাপ প্রয়োগ করে মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য করেছেন । মামলা দায়েরের পরপরই মামলার বাদী মো : জাহাঙ্গীর হোসাইন মামলা করতে না চাওয়া এবং আপোষ মিমাংসার অঙ্গীকার নামায় সই করেন। মঙ্গলবার ওই অঙ্গীকারনামা আদালতে জমা দেওয়ার কথা জানান বাদী নিজেই। পুলিশের এমন আচরনে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ আর অসন্তোষ বিরাজ করছে।

নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক দানিসুর রহমান লিমন বলেন, রোববার রাত পৌনে নয়টার দিকে উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়ন থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে নিজ বাসায় ফিরছিলেন। মামলার বাদী জাহাঙ্গীর হোসেন তার পারিবারিক সমস্যা ও চা খাওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে নিজ ঘরে ডেকে নেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো করে তাকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও ব্যাপক মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক দানিসুর রহমান লিমন বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একটি চক্রের রোষানলে পড়েছি। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমাকে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন-গতকাল রাতে দানিসুর রহমান লিমনকে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে একটি রুমে ভিতরে তালা বদ্ধ করে রাখা হয়েছে । বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশকে এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানালে তারা কোনো ব্যাবস্থা নেয়নি। ঘটনার ১২ ঘন্টা পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাংবাদিক দানিসুর রহমান লিমন কে উদ্ধার করে। একজন সংবাদকর্মীর সাথে এমন ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। মব সৃষ্টি করে কাউকে আটকে রাখা বা হেনস্তা করা আইনসিদ্ধ নয়।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন বলেন, জনৈক জাহাঙ্গির খান বাদী হয়ে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ঘটনায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।