ঢাকাThursday , 8 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ, পরীক্ষা কক্ষে তালা

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক  :: বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ, পরীক্ষা কক্ষে তালা

বরিশালের বৃহত্তম উপজেলা বাকেরগঞ্জ। ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসা বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। পরীক্ষা কক্ষে ঝুলছে তালা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক রোগীর রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এসব সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

বাকেরগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত এসব সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু হয়নি। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আমিনুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর পর কয়েকটি পরীক্ষা করতে দিয়েছেন। কিন্তু এখানে কোনো পরীক্ষা হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে যদি এসব পরীক্ষা করা হতো, তাহলে আমাদের অনেক টাকা বাঁচত।”

আরেক রোগীর স্বজন নাজমিন বেগম বলেন, “দূর-দূরান্ত থেকে অসুস্থ মানুষকে নিয়ে হাসপাতালে আসি। চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পর আবার পরীক্ষা করানোর জন্য বাইরে যেতে হয়। অনেক সময় রোগীকে নিয়ে একাধিক জায়গায় ঘুরতে হয়। এতে রোগীর কষ্ট যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়তি খরচও হয়।”

রোগীদের অভিযোগ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মানবেন্দ্র দাস বলেন, হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেছেন। ল্যাব টেকনোলজিস্ট না থাকায় গত দুই মাস ধরে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। নতুন ল্যাব টেকনোলজিস্ট যোগদান করার সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।

এ বিষয়ে বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. সাইয়েদুর রহমান বলেন , “বিষয়টি আমরা জরুরি ভিত্তিতে দেখছি। আশা করি দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম চালু করা হবে এবং ল্যাব টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।”

এদিকে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগীদের আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের।

বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা চালু করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করে নিয়মিতভাবে এসব সেবা চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।