ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জ পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি কাদা মাটির সড়কে চরম দুর্ভোগ

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৯, ২০২৬ ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের কানকি ব্রিজ থেকে চেয়ারম্যান হাট পর্যন্ত ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা বেতাগী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা। রাস্তার কিছু অংশে ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়াও কিছু অংশ গত বছর নতুন করে মাটি ফেলে সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো রাস্তাটি মাটির হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নের ৫ গ্রামের হাজারো মানুষের। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি তাদের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন কালিগঞ্জ হাট, কাঁঠালতলীর হাট, বিসমিল্লাহর বাজার, কানকিরহাট, গাজীর হাট, নূরনগর বাজার, নান্টু বাজার, এমপির হাট, চেয়ারম্যান হাট এলাকার বাসিন্দারা চলাচল করে। এ ছাড়া ছোট রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এমএ মালেক ডিগ্রি কলেজ, দক্ষিণ-পশ্চিম রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্ববর্তী মির্জাগঞ্জ উপজেলার আকতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষ মৌসুম শুরুর পর থেকে সড়কটিতে কোন প্রকার যানবাহন চলে না। এখন বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে পুরো রাস্তাই কাদামাটি হয়ে যায়। রাস্তাটি দিয়ে হেঁটে চলাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। কাঁচা কাদা মাটির সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এলাকার শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় কাদা মাড়িয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়। কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে সমস্যায় পড়ছেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য কোনো যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে না।

এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পাকা করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।

ছোট রঘুনাথপুরের বাসিন্দা বারেক হাওলাদার বলেন, গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানে মাটি দিয়ে কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে আবার বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তাটি ভেঙেও গেছে। চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান (বাবু) বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। দ্রুত রাস্তাটি পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী হাসনাই আহমেদ জানান, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।