ঢাকাSunday , 4 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বানারীপাড়ায় মাঠ দখলে চাঙ্গা বিএনপি, একক প্রার্থী নিয়ে সুসংগঠিত জামায়াত

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৭

​মাইদুল ইসলাম শফিক, বানারীপাড়া :: ​আগামী স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বিশ্লেষণে দুই দলের কৌশলে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরু।

​উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই জামায়াত তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে সাংগঠনিকভাবে মাঠে নেমে পড়েছে। অন্যদিকে, প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির ডজনখানিক হেভিওয়েট ও উদীয়মান নেতা প্রার্থিতার দৌড়ঝাঁপে নামায় তৃনমূলের নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিপাকে।
​স্থানীয় সূত্র ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর, চাখার, উদয়কাঠি, মলুহার, সৈয়দকাঠি, ইলুহার, বিশারক কান্দি, বাইশারী ও বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে বর্তমানে বিএনপির জনসমর্থন ও ভোটব্যাংক বেশ জোরালো। আওয়ামী লীগ পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে বিএনপির পক্ষে প্রবল জনমত তৈরি হয়েছে। তবে এই সুবিধাজনক অবস্থাই এখন দলটির জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক প্রার্থী নিজেদের অনুসারী নিয়ে আলাদাভাবে উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে মাঠ দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি সময়মতো একক প্রার্থী চয়ন করতে না পারে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না করে, তবে একাধিক প্রার্থীর এই দৌড়ঝাঁপ শেষ পর্যন্ত দলের জন্য ‘বুমেরাং’ হতে পারে। বিদ্রোহী প্রার্থী বা অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণে বিএনপির নিশ্চিত জয়ের সম্ভাবনা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে।
​অন্যদিকে, এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। শৃঙ্খলাবদ্ধ এই দলটি বানারীপাড়ার ৮টি ইউনিয়নেই অনেক আগেই প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করেছে। একক প্রার্থী নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নীরবে প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে দাওয়াতি কাজ ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধ না থাকায় নির্বাচনী মাঠে জামায়াত তুলনামূলকভাবে অনেকটাই গোছানো ও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
​তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বানারীপাড়ায় বিএনপির ভোট বেশি হলেও দলীয় বিশৃঙ্খলা ও একাধিক প্রার্থীর দ্বন্দ্ব তাদের ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা যদি দ্রুত প্রার্থীর সংখ্যা কমিয়ে এনে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে না নামেন, তবে সুসংগঠিত জামায়াত কিংবা অন্যান্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে বড় ধরনের চমক দেখাতে পারে।
​এ বিষয়ে বানারীপাড়ার সচেতন মহল মনে করছেন, বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রার্থিতা নিয়ে দলের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা সামাল দেওয়া এবং একক প্রার্থীর অধীনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। তা না হলে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থেকেও ভুল রাজনীতির কারণে খেসারত দিতে হতে পারে দলটিকে। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপির একাধিক প্রার্থী জানিয়েছেন, দল তাদের মনোনয়ন না দিলেও তারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। “দলের জন্য কোনো ত্যাগ নেই, মামলা-হামলার ইতিহাস নেই, শুধু টাকার জোরে এমন কোনো প্রার্থীকে দল মনোনয়ন দিলে তা মেনে নেওয়া হবে না” বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
​এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা বলেন, “বাংলাদেশে সর্বত্র নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান করেছেন, সে হিসেবে বানারীপাড়া উপজেলা বাংলাদেশের বাইরে নয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি জনমত জরিপ করে ত্যাগী, হামলা-মামলার শিকার ও জনপ্রিয় নেতা বা কর্মীকেই মনোনয়ন দিবে এবং দলকে বিজয়ী করতে সকলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে হবে। যদি কোন ইউনিয়নে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তাহলে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”