
বানারীপাড়া প্রতিনিধি ::বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় মৎস্য অফিস কর্তৃক স্থাপিত বরমগাতী মৎস্য অভয়াশ্রমের পাশেই অবাধে পাতা হচ্ছে নিষিদ্ধ ও অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল। এসব জালে নির্বিচারে ধরা পড়ছে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী।একদিকে যেমন অভয়াশ্রমের উদ্দেশ্য ব্যহত হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জলজ জীববৈচিত্র্য।
১৩ সেপ্টেম্বর(রবিবার) সকাল ১১ টায় উপজেলা মৎস কার্যালয়ের উদ্যোগে জম্বুদ্বীপ চর থেকে কয়েকটি চায়না বেহুন্দী জাল আটক করে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন রজনীর নেতৃত্বে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে অবয়াশ্রম স্থাপন করা হলেও এর আশপাশেই প্রকাশ্যে চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করা হচ্ছে। অতি সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির পোনা, ছোট মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে।
ফলে প্রজনন মৌসুমে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে যেতে পারে স্থানীয় অনেক প্রজাতির মাছ। অথচ মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অবয়াশ্রম স্থাপনের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—মৎস্য অফিসের স্থাপিত অবয়াশ্রমের পাশেই যদি নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ নিধন চলতে থাকে, তাহলে অবয়াশ্রমের কার্যকারিতা কোথায়?
তারা অবিলম্বে বরমগাতী মৎস্য অভয়াশ্রম ও এর আশপাশে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর অভিযান এখন সময়ের দাবি।

