
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের বাবুগঞ্জে জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাবুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. রিয়াজুর ইসলাম। ঘটনাটি উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দেহেরগতি গ্রামের আব্দুল জলিল হাওলাদারের বাড়িতে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেহেরগতি মৌজার জেএল নম্বর-৩৫, খতিয়ান নম্বর-১৩৩৫ এবং দাগ নম্বর ২২০, ২২৩, ২২৪, ২৭৪ ও ২৫২-এর মোট ১২ শতাংশ জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে মো. মনির হাওলাদার, মোঃ ইসহাক মল্লিক, তাসলিমা বেগম ও ফাহিমা বেগমমের বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত ২৬ জুলাই বাবুগঞ্জ থানায় তিনজনকে বিবাদী করে লিখিত অভিযোগ দেন রিয়াজুর ইসলাম।
অভিযোগে হাফেজ মাওলানা রিয়াজুর ইসলাম বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে তার বাবা ও চাচারা পারস্পরিক এওয়াজ-বদলের মাধ্যমে জমি ভোগদখলে নেন। এরপর থেকে তারা ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্প্রতি প্রতিপক্ষ তাদের বসতবাড়ির জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাফেজ মাওলানা রিয়াজুর ইসলামের দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদীরা তা মানেননি। গত ২৬ জুলাই সকাল ১১টার দিকে জমির বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়।
পরে এ ঘটনায় বাবুগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নিয়ে বসার জন্য সময় নির্ধারণ করে। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, পুলিশের নির্ধারিত বৈঠকের তোয়াক্কা না করে গত ২১ আগস্ট সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের বাড়িতে আসে।
এ সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও খুন-জখমের হুমকি দিয়ে হাফেজ মাওলানা মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এর রান্না ঘরের উপরে বাঁশ ও টিন দিয়ে একটি ঘর নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন রিয়াজুর ইসলাম।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মনির হোসেন বলেন, এটি আমার বাবা-দাদার জমি। সেই জায়গাতেই নতুন করে ঘর তৈরি করেছি।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে অভিযোগ পেয়েছেন তদন্ত পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিরোধের বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। উভয় পক্ষের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

