ঢাকামঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক : অভিযান আছে, প্রতিকার নেই

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৩৩

‎এইচ এম সোহেল :: ‎বরিশাল নগরীজুড়ে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে—হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও ‘সফলতা’র খবর প্রকাশ পেলেও বাস্তবে কমছে না মাদকের সরবরাহ কিংবা ব্যবহার। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই অভিযানের কার্যকারিতা কতটুকু?

‎নগরীর বিভিন্ন এলাকা—নথুল্লাবাদ, রূপাতলী, কাশীপুর, সদর রোড, পলাশপুর, রসুলপুর, লঞ্চঘাট কেডিসি, রিফিউজি কলোনি সহ নগরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির কাছে নতুনবাজার বস্তি ও আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পটকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর জমে ওঠে মাদক বাণিজ্য। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


‎মাদকের সহজলভ্যতার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ ও উঠতি বয়সী স্কুল পড়ুয়া কিশোররা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সন্তানরা খুব সহজেই মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

‎এদিকে অভিযান আছে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নেই
‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার দাবি করা হলেও স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের সারা বছর জুড়ে বড় বড় সফল অভিযান থাকছে।
‎একই সাথে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ এর মাদক আটক।
‎এদিকে মাদক বিরোধী অভিযানে কিছু খুচরা বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
‎ফলে কিছুদিন পরই আবার একই চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে।

‎বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( অফিসার ইনচার্জ) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম জানায় মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, সাথে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। একই সাথে প্রত্যেকটি পরিবারের অভিভাবকের দরকার সন্তানদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি প্রদান করা, এছাড়াও মাদক সমস্যার পেছনে রয়েছে বেকারত্ব, হতাশা ও সামাজিক অবক্ষয়। তিনি আরো বলছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়
‎পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হলে এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান হবে না।
‎এদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার চৌকস অফিসার গোলাম হোসেন নাসিমকে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান
‎মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

‎বরিশালের সচেতন নাগরিকরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান। তাদের দাবি—
‎মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি
‎নিয়মিত নজরদারি ও গোপন তদন্ত জোরদার ও
‎তরুণদের জন্য বিকল্প বিনোদন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
‎বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকলেও বাস্তবতা বলছে—এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে মাদক পরিস্থিতি। কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।