
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার নির্যাতনে দিশেহারা অসহায় মানুষ
আলেকান্দায় ব্যবসায়ী, বাড়ির মালিক, হকার ও অসহায় মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ; সুদের টাকা আদায়ে হয়রানি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও সাধারণ মানুষকে অপমান-অপদস্ত করার অভিযোগ ঘিরে তদন্তের দাবি।
বরিশাল নগরীর আলেকান্দা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিবিএ নেতা ও আওয়ামী লীগপন্থী নেতা তুহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সুদের কারবার, অসহায় মানুষকে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে অপমান-অপদস্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা হতো। সেই প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার, বাড়ির মালিক এবং আর্থিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষ—বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। সুদের বিনিময়ে টাকা ধার দেওয়া, নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধে বিলম্ব হলে চাপ সৃষ্টি এবং ব্যবসা বা নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে অর্থ দাবির অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তুহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুদের বিনিময়ে টাকা ধার দেওয়া এবং পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে ঋণগ্রহীতাদের হয়রানি। স্থানীয় অভিযোগকারীদের দাবি, আর্থিক সংকটে পড়ে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে সুদের টাকা দিতে না পারলে তাঁকে অপমান-অপদস্ত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের মুখে পড়তে হতো।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দরিদ্র মানুষের আর্থিক দুরবস্থাকে বিবেচনায় না নিয়ে টাকা আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে তাঁদের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। সীমিত আয়ের মানুষ যখন সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খান, তখন ঋণের টাকা ও সুদ পরিশোধে বিলম্বকে কেন্দ্র করে হয়রানির অভিযোগ তাঁদের আরও অনিরাপদ করে তোলে।
প্রশ্ন উঠেছে, আর্থিক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো অসহায় মানুষকে অপমান বা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে কি না, হলে কোন পরিস্থিতিতে এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, লেনদেনের নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত জরুরি।
আলেকান্দা এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে তুহিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা চাওয়া হতো। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাভাবে হয়রানি করা হতো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দাবিকৃত টাকা না দিলে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল।
ব্যবসা পরিচালনার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। সেই অধিকার ক্ষুণ্ন করে কেউ প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ।
তুহিনের বিরুদ্ধে নতুন বাড়ি নির্মাণ, জমি কেনাবেচা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার সময় এককালীন মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কেউ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে তাঁকে অর্থের জন্য চাপ দেওয়া হতো। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি এবং প্রাণনাশের ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এসব অভিযোগ সত্য হলে তা সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও নিরাপদে বসবাসের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। তবে কোন ব্যক্তি কখন, কোথায় এবং কত টাকা দাবি করেছেন—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ থাকলে সেগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তুহিন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অপমান-অপদস্ত করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং অনুসারীদের নিয়ে প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না। তবে অনুসারীদের নিয়ে ক্যাডারসদৃশ গোষ্ঠী গড়ে তোলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যক্তিকে আইনের ঊর্ধ্বে স্থান দেয় না। আবার রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলেও চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
তুহিনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের অপমান-অপদস্ত করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, টাকা-পয়সার লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধের সময় প্রভাব দেখিয়ে কথা বলা এবং মানুষকে হেয় করার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে সম্মান না দিয়ে ক্ষমতা বা প্রভাবের দাপট দেখানো হলে সমাজে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ প্রতিবাদ করতে না পারলে তাঁদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এসব অভিযোগের নির্দিষ্ট ঘটনা ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তুহিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয়, সাংগঠনিক পদ কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাব—কোনোটিই যেন তদন্তের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে চাঁদাবাজি, হুমকি, নির্যাতন কিংবা অন্য কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তুহিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজি, সুদের টাকা আদায়ে হয়রানি, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়ে তুহিনের একাধিকবার ফোন করা হয়েছে ফোন রিসিভ করেনি পরবর্তীতে তার whatsapp নাম্বারে বার্তা পাঠিয়ে আপনার মূল্যবান বক্তব্য চাওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে আপনার বক্তব্য ঠিকভাবে সাংবাদে তুলে ধরা হবে কিন্তু তিনি বার্তা দেখেছে কিন্তু কোন উত্তর দেয়নি।
এ বিষয়ে কথা বলতে বরিশাল পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাবেদ ইকবাল-এর সাথে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত জানতে ও বক্তব্য চেয়ে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) নম্বরে একটি লিখিত বার্তা পাঠানো হয়। তবে তুহিন সাহেব অবসরে গেছেন, নাকি তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে—এ বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য বা দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

