ঢাকাশুক্রবার , ২৯ আগস্ট ২০২৫

অপারেশনের ৬ মাস পর নারীর পেটে মিলল গজ কাপড়

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
আগস্ট ২৯, ২০২৫ ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিবেদক :: অপারেশনের ৬ মাস পর নারীর পেটে মিলল গজ কাপড়।

 

ফেনীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের ছয় মাস পর ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) নামে এক নারীর পেট থেকে গজ কাপড় বের করা হয়েছে। বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে চিকিৎসকেরা গজটি অপসারণ করেন। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

 

ফরিদা ইয়াসমিন ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার জয়চাঁদপুর গ্রামের প্রবাসী মহি উদ্দিনের স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ ফেব্রুয়ারি ফেনীর বেসরকারি আল-কেমী হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাসলিমা আক্তারের তত্ত্বাবধানে তার সিজার হয়। এর পর থেকেই তিনি তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি এটিকে সিজারের স্বাভাবিক ব্যথা বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিভিন্ন ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, পেটে রক্ত পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত গজ কাপড় রয়ে গেছে।

 

বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা আবারও অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। ফরিদার ভাই মো. শাহ ফয়সালের দাবি, দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচারে পাঁচ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার বোন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। এর দায়ভার অবশ্যই চিকিৎসক তাসলিমাকে নিতে হবে।’ এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেনী সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চিকিৎসক তাসলিমা আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। আল-কেমী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মান্নান ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ছয় মাস আগের এ ঘটনা সম্প্রতি তাদের জানা গেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ফেনী সিভিল সার্জন মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।