ঢাকাSunday , 21 December 2025
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাকেরগঞ্জে দিলীপ চন্দ্রের কাছ থেকে দফায় দফায় ঘুষ নিয়েছেন এসআই আবুল কালাম আজাদ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, থানায় সাধারণ মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে তিনি অর্থ ছাড়া কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেন না।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, গত জুলাই মাসের ৭ তারিখে আমার বাড়ি থেকে চারটি গরু রাতের আঁধারে চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে তদন্ত যায় এসআই আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তীতে থানার তৎকালীন ওসি আবুল কালাম আজাদ গরু চুরির ঘটনা একটি মামলা এজাহার ভুক্ত করেন। মামলা গ্রহণের সময় এসআই আবুল কালাম আজাদ মামলা গ্রহণ বাবদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। তখন তাকে ৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মামলার তদন্তে গেলে তার দাবি অনুযায়ী ১ হাজার টাকা করে আরো ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এরপর আসামিদের কল লিস্ট বের করার কথা বলে আবারো আমার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নেয় এসআই আবুল কালাম আজাদ। দুই মাস আগে মামলার ফাইনাল তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করার কথা বলে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তখন আমি অনেক অনুরোধ করে তাকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করি। এসআই আবুল কালাম আজাদ আসামিদের কাছ থেকে মোট অংকের টাকা গ্রহণ করে গত ২৬ নভেম্বর গরু চুরির মামলাটির ফাইনাল তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করে যে রিপোর্ট সম্পূর্ণ অসত্য। আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে রিপোর্টটি প্রদান করেছে। টাকার বিনিময় মিথ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করায় আমি ন্যায় বিচার পাইনি।

এছাড়াও দিলীপের স্ত্রীর অভিযোগ করে বলেন, গরু চুরির কয়েকদিন পর ১১ ই জুলাই গভীর রাতে আমার কুটার কুড়ে আগুন দেয় গরু চুরি ঘটনার আসামিরা। যেই ঘটনায়ও বাকেরগঞ্জ থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে আমি দ্বিতীয় একটি মামলা দায়ের করি যেই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই আবুল কালাম আজাদ। ওই মামলাটিতেও তদন্তে এসে এস আই আবুল কালাম বিভিন্ন সময় তার দাবি অনুযায়ী ঘুষের টাকা নিয়েছেন। আমার এই দুইটি মামলায় এসআই আবুল কালাম আজাদকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আবুল কালাম আজাদ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, পুলিশ কি এই কাম করে? আপনি হলে দিবেন? আপনার কোন কাজে আমি যদি দশ বার যাই আপনি কি টাকা দিবেন? তার গরু চুরি হইছে আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু মালের কোন হদিস পাইনাই। আপনি বিষয়টি নিয়ে সার্কেল স্যারের সাথে কথা বলতে পারেন। তার অভিযোগ থাকলে সে আমার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগ দিক বা যেটা করার করুক অসুবিধা নাই।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা জানান, এসআই আবুল কালাম আজাদকে টাকা পয়সা দেয়া হয়েছে এর কি প্রমাণ রয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মৌখিক অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন।