
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল বিভাগে প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ চোখে ছানি পড়ার সমস্যায় আক্রান্ত হন। বিপুলসংখ্যক মানুষের এ চক্ষু রোগের চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও সরকারি পর্যায়ে চক্ষুসেবায় রয়েছে বড় ধরনের জনবল ঘাটতি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের অন্য কোনো সরকারি হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে জুনিয়র ও সিনিয়র কনসালটেন্ট নেই বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার।
রোববার (৩০ আগস্ট) বরিশাল নগরীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারের হলরুমে ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘বরিশাল বিভাগে ছানি পড়া রোগীর সংখ্যা দূরীকরণ: অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আলোচনা’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়।
ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দার বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোর চক্ষু বিভাগে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ মানুষকে চোখের চিকিৎসা নিতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ছানি পড়া রোগীর সংখ্যা কমাতে শুধু অস্ত্রোপচার নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বিভাগের প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ‘বরিশাল ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের আওতায় দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের উদ্যোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বরগুনা ও ঝালকাঠি ছাড়া বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতে এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় নিয়ে চক্ষুসেবা কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের ভিশন স্ক্রিনিংয়ের পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।
সভায় দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য ক্লাস্টারের পরিচালক মুসাব্বির আলম বলেন, ২০১২ সাল থেকে বরিশাল বিভাগে চক্ষুসেবা নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় বিভাগের প্রায় ৬০ হাজার ছানি আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে বরিশাল জেলা বাদে বিভাগের অবশিষ্ট পাঁচ জেলায় ছানি দূরীকরণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন এবং চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।
এ সময় বিভাগের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন, উপজেলা পর্যায়ের মেডিকেল অফিসার, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

