ঢাকাশনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাবুগঞ্জে সাপে কাটা যুবকের মৃত্যু : দাফনে বিলম্ব, ঝাড়ফুঁক ঘিরে চাঞ্চল্য, যুব অধিকার পরিষদের শোক

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
১৬
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি :: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় সাপে কাটা এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দাফনে বিলম্ব ও ঝাড়ফুঁকের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত এইচএম সায়েম (২৭) স্থানীয়ভাবে পরিচিত এক পরিশ্রমী যুবক ছিলেন এবং বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
তিনি উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের রাজমাথা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় কাভার্ড ভ্যানচালক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বরিশাল জেলা যুব অধিকার পরিষদের শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ এবং ত্যাগ-তিতিক্ষা সহকর্মীদের মাঝে তাকে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চাঁদপাশা ও রহমতপুর ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাঙ্গা বুনিয়া খাল এলাকায় তাকে সাপে কামড় দেয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা এন্টিভেনম প্রয়োগ করেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুর পর তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হলে তাৎক্ষণিক দাফন না করে স্বজনরা বিভিন্ন স্থান থেকে সাপুড়ে ও ওঝা এনে ঝাড়ফুঁক শুরু করেন। তাদের বিশ্বাস ছিল, অলৌকিকভাবে সায়েমকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। এ ঘটনায় এলাকায় কৌতূহল, উদ্বেগ এবং উৎসুক জনতার ভিড় সৃষ্টি হয়।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকেলের দিকে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে তিনি আর বেঁচে নেই। পরে মাগরিব নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে এইচএম সায়েমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় সংগঠনটি জানায়, এইচএম সায়েম ছিলেন সংগঠনের একজন নিবেদিতপ্রাণ ও কর্মঠ সংগঠক। শ্রম ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তিনি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার অকাল মৃত্যু সংগঠনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
শোকবার্তায় আরও বলা হয়, তার আদর্শ, সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতা আগামী দিনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক কাওছার আলী পৃথক বার্তায় বলেন, “সায়েমের মতো একজন নিষ্ঠাবান কর্মীকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তার অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে এন্টিভেনম প্রয়োগই একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা। নির্ধারিত চিকিৎসার পরও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব না হলে ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।