ঢাকাWednesday , 1 July 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালের রায় পাশা-কড়াপুরে প্যানেল চেয়ারম্যানের একপাক্ষিক সালিশ-সম্পদ-বিরোধ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৯৭

মাসুদ রানা :: সরকারি বরাদ্দে পাওয়া এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘর নিয়ে বরিশালের রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে উত্তরাধিকার বিরোধকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার একপাক্ষিক সালিশের মাধ্যমে বড় ছেলের কাছে ঘরের মালিকানা বুঝিয়ে দিয়েছেন। এতে অপর দুই সন্তান ও দ্বিতীয় স্ত্রী বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পরিবার।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমজাদ আলী ফকির সরকারি উদ্যোগে একটি ঘর পেয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর দুই ছেলে, এক মেয়ে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অংশীদার হন। অভিযোগকারী পরিবারের ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের সম্পদ সব উত্তরাধিকারীর মধ্যে সমানভাবে বন্টন হওয়ার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সালিশে বড় ছেলে শাহ আলমের পক্ষেই একক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মনসুর হাওলাদারসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, অন্য উত্তরাধিকারীদের বক্তব্য যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সিদ্ধান্তের আগে শাহ আলমের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী আরও দাবি করেন, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, একপাক্ষিক সালিশ, জমি দখল এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ছোট ছেলে গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা উত্তরাধিকারীদের সমান অংশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারপরও সালিশের মাধ্যমে বড় ভাইকে এককভাবে ঘর বুঝিয়ে দেওয়ায় তিনি, তার বোন এবং তাদের সৎমা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

তবে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ হাওলাদার বলেন, তিনি কোনো ঘুষ নেননি। তার দাবি, মরহুম মুক্তিযোদ্ধা জীবদ্দশায় বড় ছেলের ছেলেকে ঘরটি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বক্তব্য এবং উপস্থিত কিছু সাক্ষীর মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।