ঢাকাবুধবার , ৮ জুলাই ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুত্রবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সালিশে অপমান, শশুরের আত্মহত্যা

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
জুলাই ৮, ২০২৬ ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৭০

নিউজ ডেস্ক :: পুত্রবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সালিশে অপমান শশুরের আত্মহত্যা

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেরাকোনা গ্রামে পুত্রবধূকে ধ/র্ষ//ণচেষ্টার অভি/যোগে সালিসে অ/প/মানিত হওয়ার জেরে সোহরাব উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যক্তি আ/ত্মহ/ত্যা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির পেছনে একটি আমগাছের ডাল থেকে তার ঝুলন্ত
ম/র/দেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোহরাবের পুত্রবধূ ঘরের বাইরে গেলে শ্বশুর তাকে জ/ড়ি/য়ে ধরে ধ//র্ষ/ণচেষ্টা চালান বলে অভি/যোগ ওঠে। পরদিনই ক্ষুব্ধ ও অ/প/মানিত পুত্রবধূ স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান এবং শ্বশুরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অ/ভি/যোগ দায়ের করেন।

অ/ভি/যোগের পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গত শুক্রবার সোহরাবের বাড়ির সামনে একটি সালিস বৈঠক বসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ওই সালিসে সোহরাবকে চরমভাবে অ/প/মান করা হয় এবং জ/রি/মানা করা হয়। সেই সঙ্গে সব জমিজমা চার ছেলের নামে লিখে দিয়ে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী বুধবার আরেকটি সালিসের তারিখও ঠিক হয়েছিল।

এর মধ্যে গত সোমবার হঠাৎ নিখোঁজ হন সোহরাব। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বাড়ির পেছনের আমগাছে তার ঝু/ল/ন্ত ম/র/দেহ দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, লো/ক/ল/জ্জা ও সালিসে অ/প/মানের গ্লা/নি সহ্য করতে না পেরেই তিনি এই পথ বেছে নেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ম/র/দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

নি/হ/তের ছেলে উজ্জল মিয়া জানান, স্ত্রী তাকে জানিয়েই বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন। এরপর দরবারে বাবাকে ডেকে শাসন করা হয় এবং আরেকটি দরবারের খবর শুনে তিনি আগেই বাড়ি ছাড়েন। পরে আমগাছের ডালে তার লা/শ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

সালিসে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া মিল্টন, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারসহ আরও অনেকে। চেয়ারম্যানের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে সালিসে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মেম্বার বাবুল। তিনি জানান, নারীর অভি/যোগ ছিল—রাতে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে মা/রধ/র করেন। ঘটনাটি নিয়ে গ্রামে নানা গুঞ্জন থাকায় দরবারে সোহরাবকে হয় বাড়িতে না থাকা, নয়তো ছেলেদের বাড়ি ছাড়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। এ কারণেই আরেকটি সালিসের তারিখ ধার্য করা হয়।

পুত্রবধূর লিখিত অভিযোগ তদন্ত করেছিলেন নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক পলাশ। তিনি জানান, তদন্তের সময় অ/ভি/যোগকারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক বিবেচনায় ম/রদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।