
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে:ভারতীয় হাইকোর্ট
অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী বিষয়ে এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে ভারতের আদালত। পুলিশের উদ্দেশে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের হাইকোর্ট বলেছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘প্রশ্রয় দেয়া’ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে নিজের দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করারও সমালোচনা করেছেন বিচার
সংবাদমাধ্যম ফ্রি প্রেস জার্নাল বলছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের তথ্য প্রকাশকারী এক চিকিৎসক ও সমাজকর্মীকে গ্রেপ্তার করায় বেঙ্গালুরু পুলিশের কড়া সমালোচনা করেছে ভারতের কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের তুষ্ট করা বন্ধ করতে হবে।
বিচারপতি এম. নাগাপ্রসন্ন বলেন, পুলিশের এ ধরনের আচরণ দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য হুমকি। আদালত যখন অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিচ্ছে, তখন পুলিশ উল্টো তাদের অভিযোগ গ্রহণ করে নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করছে।
ডা. নাগেন্দ্র নামে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমও স্থগিত করেছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (এফআরআরও) পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৬ আগস্ট।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই ডা. নাগেন্দ্রাপ্পা দাবি করেন, হোসাসিদ্দাপুরার নাসরিন এবং কোদাথি গ্রামের মোহাম্মদ সাইদুল্লা ইসলাম অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী। তার অভিযোগ, তারা গত ১৫ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন।
এরপর ওই দুজন ভার্থুর ও বেল্লান্দুর থানায় অভিযোগ করেন, ডা. নাগেন্দ্রাপ্পা তাদের ওপর হামলা করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ডা. নাগেন্দ্রাপ্পাকে গ্রেপ্তার করে, তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে এবং তাকে কারাগারে পাঠায়।
পরদিন তিনি জামিন পান এবং কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। মুক্তি পাওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বাতিলের আবেদন নিয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টে যান ডা. নাগেন্দ্রাপ্পা।
শুনানিতে তার আইনজীবী বলেন, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার মক্কেলের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের করেছে।
এ সময় সরকারি কৌঁসুলি আদালতকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবৈধ অভিবাসী বলে জানার পরপরই পুলিশ বিষয়টি ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (এফআরআরও) জানিয়েছে।
তবে এ বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি নাগাপ্রসন্ন। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, তাদের শনাক্তকারী নিজের দেশের নাগরিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
বিচারপতি আরও বলেন, ‘তারা মিথ্যা বলেছে যে তাদের মারধর করা হয়েছে। আর পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করেছে। এমনকি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নারীর শ্লীলতাহানির ধারাও যোগ করা হয়েছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

