
নিজস্ব প্রতিবেদক :: উজিরপুর ভূমি অফিসে ঘুসকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল, দুই কর্মচারী প্রত্যাহার।
বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত দুই কর্মচারী, ঘুস লেনদেনের ভিডিও ঘিরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুস গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে দুই নারী কর্মচারীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানুন।
প্রত্যাহার হওয়া দুই কর্মচারী হলেন শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা আক্তার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া আক্তার।
সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুস লেনদেনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে ঘুস লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া ঘুস লেনদেনের ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে মিরাজ নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি ঘিরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তাঁদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও অভিযোগগুলো সামনে আসার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার জারি করা আদেশে সানজিদা আক্তার ও সুরাইয়া আক্তারকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক গাড়িচালক রাসেল মৃধাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পৃথক তদন্তের ফলাফল, অভিযুক্তদের বক্তব্য কিংবা ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভূমি অফিসে নামজারি, জমির খাজনা, ভূমিসংক্রান্ত নথি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত যেতে হয়। এসব সেবা পেতে ঘুস বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে জনসাধারণের মধ্যে প্রশাসনিক সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।’

