ঢাকাSaturday , 22 August 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উজিরপুরে পৌর কাউন্সিলর সুব্রতর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৫৫

উজিরপুর প্রতিনিধি :: বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা, নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং জনসেবা ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ওয়ার্ডে যান না, সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন না। এমনকি সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে অনেক নাগরিককে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ রয়েছে শত শত মানুষের।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায় নানা তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একজন প্রকৌশলী হওয়ায় ওই এলাকার দরিদ্র মানুষগুলো তার কাছে নিজেদের সমস্যার কথা নিয়ে সহজে যেতে পারেন না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উজিরপুর পৌরসভার তৎকালীন মেয়র ও কাউন্সিলররা উজিরপুর ছেড়ে চলে যান। এতে পৌরসভার জনপ্রতিনিধিত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হলে সরকার পৌর প্রশাসক নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নিয়োগ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পান উজিরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুব্রত রায়।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, একজন কাউন্সিলরের কাছে নাগরিকরা তাদের সমস্যা নিয়ে যাবেন—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে যদি সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয়, তাহলে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তাদের অভিযোগ, কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় বিভিন্ন নাগরিক সেবা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

বিশেষ করে, তিনি প্রায় সময় বরিশাল শহরে থাকেন। শুক্র ও শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে তাকে ফোন দিয়েও পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ওই ওয়ার্ডের একাধিক বাসিন্দা বলেন, তাদের ওয়ার্ডটিতে দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি। কিন্তু সুব্রত রায় দায়িত্ব নেওয়ার পর সেখানে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সাধারণ মানুষ সেবা পেতে তার সরকারি অফিসে গিয়ে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেও তার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। মাঝে মধ্যে দেখা পেলেও তার রুক্ষ আচরণে নিরাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এ নিয়ে কাউন্সিলরের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সচেতন নাগরিকদের দাবি, সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জনস্বার্থে তাকে কাউন্সিলরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ও সক্রিয় একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।