
মাইদুল ইসলাম শফিক, বানারীপাড়া :: আসন্ন চাখার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়নবাসীর আন্তরিক দোয়া, ভালোবাসা ও সুচিন্তিত ভোট প্রার্থনা করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো: সাইদুল ইসলাম। সম্প্রতি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি চাখার ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও আদর্শ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে রূপান্তরের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মো: সাইদুল ইসলাম বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের(৮ নং ওয়ার্ড)বলিয়ারকাঠি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দরবেশ বাড়ির মোঃ আক্কেল আলী হাওলাদারের ছোট ছেলে। তিনি একটি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত, নম্র ও ভদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষানুরাগী ও সুশিক্ষিত এই ব্যক্তিত্ব পেশাগত জীবনে বানারীপাড়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বানারীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং চাখার ওয়াজেদ মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক স্ত্রী ও দুই সন্তানের জনক।
মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন থেকেই মো: সাইদুল ইসলাম রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তিনি ২০০৮ সাল থেকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের দুঃসময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি চরম রাজনৈতিক নিপীড়ন ও একাধিক রাজনৈতিক মামলার শিকার হন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি বিস্ফোরক মামলা, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সাথে একটি মিথ্যা অস্ত্র মামলা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনে একটি গাড়ি ভাঙচুরের মামলা দায়ের করা হয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে বানারীপাড়ায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দ্বারা গঠিত তথাকথিত হাতুড়ি বাহিনীর মারাত্মক হামলার শিকার হয়ে তিনি দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ও অসুস্থ ছিলেন। তবে ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি সকল মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেছেন।
জনসেবার ব্রত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মো: সাইদুল ইসলাম জানান, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন এবং সমাজে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি অতীতে যেমন প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলেন, ভবিষ্যতেও চাখারবাসীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত এলাকাগুলোর সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করাকে তিনি তাঁর মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এর পাশাপাশি তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে খেলাধুলা এবং গঠনমূলক নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে একটি মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, চাখার ইউনিয়নের সার্বিক কল্যাণ, সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, মানুষের অধিকার আদায় এবং এলাকার শান্তির স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আস্থাকে সাথে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে সকলের প্রত্যক্ষ সমর্থন ও মূল্যবান ভোট প্রত্যাশা করছেন কর্মীবান্ধব এই নেতা।

