ঢাকাMonday , 26 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশালে মনিরুজ্জামান খান ফারুকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা দমনে স্প্রে ও কীটনাশক প্রয়োগ

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৪৪

মো: মারুফ হোসেন বাবু :: ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশালে মনিরুজ্জামান খান ফারুকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা দমনে স্প্রে ও কীটনাশক প্রয়োগ

নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বরিশাল গড়তে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ, মশার উপদ্রব কমানো এবং পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তাঁর উদ্যোগে নগরীর সোনালী আইসক্রিমের মোড় থেকে নাজিরপুল পর্যন্ত এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সহযোগিতা করেন।

নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোই ছিল এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ সময় ড্রেন ও আশপাশের এলাকায় ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে করা হয়, মশা দমনে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় এবং সড়কের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু কর্তৃপক্ষ নয়, নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে

পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, বরিশালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু সিটি করপোরেশন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না; নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, বাড়ির আঙিনা, বাসাবাড়ির আশপাশ, নালা-নর্দমা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন ময়লা-আবর্জনা জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ করে যেসব স্থানে পানি জমে মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি।

তাঁর মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

দোকানপাটের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান

অভিযান চলাকালে মনিরুজ্জামান খান ফারুক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সড়কের পাশের বিভিন্ন দোকানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে দোকানের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার অনুরোধ করেন।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার। দোকানের সামনে কিংবা সড়কের পাশে যত্রতত্র ময়লা ফেলে রাখলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং নগরীর স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা ব্যাহত হয়। এ কারণে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি নিয়মিত চর্চার বিষয়। নাগরিকদের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে নগরীর পরিবেশ যেমন সুন্দর হবে, তেমনি ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হবে।

‘আমরা একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বরিশাল দেখতে চাই’

মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, “আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী দেখতে চাই, যেখানে শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবাই নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারবেন। এমন একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। এ জন্য নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। নগরীর প্রতিটি সড়ক, ড্রেন, খাল, খোলা জায়গা ও আবাসিক এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদেরও সক্রিয় হতে হবে। যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা, পানি জমতে না দেওয়া এবং নিজেদের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার মতো ছোট ছোট উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

তাঁর ভাষ্য, নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর শহর গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত ও কার্যকর করতে হবে।

ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা

নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন মনিরুজ্জামান খান ফারুক। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির প্রতি নজর রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে এ ধরনের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিচ্ছন্নতা আন্দোলন আরও গতিশীল হতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য জমে থাকার প্রবণতা কমবে এবং মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

অভিযানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান মারুফ ও অ্যাডভোকেট তসলিম আহমেদ, মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদ রহমান তুষার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক দ্বীন ইসলাম ইকু।

এ ছাড়া ১, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. সোহেল ইসলাম, ফরিদ আহমেদ সিকদার, হানিফ হাওলাদার ও মো. আমীর খসরু উপস্থিত ছিলেন। মহানগর যুবদলের দপ্তর সম্পাদক তারেকুল ইসলাম ঝুনু, সহদপ্তর সম্পাদক মো. মামুন হোসেনসহ বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে। তবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পানি জমতে না দেওয়া, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং কার্যকর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।