ঢাকাFriday , 4 September 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জুমার দিনে যে ১০ আমলে মিলবে বিশেষ সওয়াব

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....

ধর্ম ডেস্ক :: জুমার দিনে যে ১০ আমলে মিলবে বিশেষ সওয়াব

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে পরিচিত। এ দিনে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ রয়েছে। তাই জুমার দিনটি শুধু নামাজ আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে বিশেষ কিছু আমলের মাধ্যমে কাটানো উত্তম।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ

অর্থ: ‘হে ঈমানদারগণ! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও।’ —সুরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৯

জুমার দিনে যেসব আমল করা যেতে পারে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০টি হলো

১. পরিচ্ছন্ন হওয়া ও নখ কাটা

জুমার দিনের আগে বা দিনে শরীর ও পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখা, নখ কাটা এবং নিজেকে পরিপাটি রাখা উত্তম। এগুলো ইসলামের পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা ও ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।

২. জুমার গোসল করা

জুমার নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজে আসতে চায়, সে যেন গোসল করে নেয়।’ —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৪৪।

৩. মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার

জুমার দিনে মিসওয়াক করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০।

৪. সুরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলোর ব্যবস্থা করা হবে। —মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৩৩৯২।

৫. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমার দিন। তাই এ দিনে তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭।

৬. মসজিদে আগেভাগে যাওয়া

জুমার নামাজের জন্য যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, ততই ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় আগত মুসল্লিদের নাম ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকেন। প্রথম দিকে আগমনকারীর জন্য বড় সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮১।

৭. সম্ভব হলে হেঁটে মসজিদে যাওয়া

পবিত্রতা অর্জন করে মসজিদের দিকে হেঁটে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সওয়াব রয়েছে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। তাই সম্ভব হলে জুমার নামাজে হেঁটে যাওয়া উত্তম আমল। —সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬৬৬।

৮. খুতবা নীরবে মনোযোগ দিয়ে শোনা

ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমনকি অন্য কাউকে ‘চুপ করুন’ বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ থাকো, তবে তুমি অনর্থক কথা বললে।’ —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৪।

৯. জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো যথাসময়ে জামাতের সঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করা। মহান আল্লাহ জুমার নামাজের আহ্বান হলে দুনিয়ার কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে এগিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন।

১০. দোয়া কবুলের সময় খোঁজা

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। —সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৩৫।

অন্য বর্ণনায় জুমার দিনের ওই বিশেষ সময়টি আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত খোঁজার কথা এসেছে। —সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮।

তাই জুমার দিনকে অবহেলায় না কাটিয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, জিকির, ইস্তিগফার ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানো উচিত। এতে ইবাদতের পাশাপাশি মহান আল্লাহর স্মরণে হৃদয় প্রশান্ত হয় এবং জীবনে বরকত আসে