ঢাকাSunday , 28 June 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই দফায় সময় ও ৩০০ কোটি বাজেট বৃদ্ধি, তবুও চালু হয়নি বরিশালের ক্যান্সার হাসপাতাল

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই এমনিতেই অত্যন্ত কঠিন। তবে চিকিৎসা সেবার সংকটে দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো রোগীর জন্য সেই লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

দুই দফায় সময় বাড়িয়েও এখনো আলোর মুখ দেখেনি বরিশালের নির্মাণাধীন ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগের বিশেষায়িত হাসপাতালটি। এর ফলে প্রকল্পটির ব্যয় ১০০ কোটি থেকে বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাজেটে।

ঢাকায় দৌড়াদৌড়ি ও রোগীদের চরম ভোগান্তি

সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান ইতি কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত। তার মতো হাজারো রোগীর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার পাশাপাশি ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বারবার ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
ইশরাত জাহান ইতি বলেন, “আমি পিজিতে ও মহাখালীতে ট্রিটমেন্ট করাই। কিন্তু বরিশালে একটা ক্যান্সার হসপিটাল থাকলে এত দৌড়াদৌড়ি করা লাগত না। আমি বরিশালেই ট্রিটমেন্ট করতে পারতাম।”
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১৫ সাল থেকে রেডিওথেরাপি মেশিন নষ্ট। একই সাথে সেখানে কোনো রেডিওলজি মেশিন নেই এবং ব্রাকিথেরাপি যন্ত্রও অচল পড়ে আছে।
হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) ডা. এ টি এম মন্টু বলেন, “প্রধান সংকট হলো রেডিওথেরাপি মেশিন। এটি থাকলে রোগীদের ঢাকায় দৌড়াতে হতো না। এছাড়া এখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ও মিড লেভেলের কোনো জনবল নেই।”

প্রকল্পের ধীরগতি ও গণপূর্তের বক্তব্য

সংকট দূর করতে ২০১৯ সালে একনেকে আড়াই একর জায়গায় এই বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রকল্প পাশ হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে ৯৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল।
২০২৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় মেয়াদ ও বাজেট বাড়ানো হয়। প্রথমে ১৭五 কোটি এবং পরে ২৩৯ কোটি টাকা করা হলেও হাসপাতালটি চালু হয়নি।
বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম জানান, প্রকল্পে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। মূলত লিংক করিডোরের জন্য স্টিল স্ট্রাকচারের একটি রাফ এস্টিমেট করা হয়েছে, যাতে আরও প্রায় ৪০ কোটি টাকা লাগতে পারে।
তবে বরিশাল গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালেদ হুসাইন আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাজ প্রায় শেষ। আরডিপিডি অনুমোদন হলে আমাদের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইনশাল্লাহ শেষ হবে।”

প্রশাসনিক জটিলতা ও স্বাস্থ্য বিভাগের আশাবাদ

একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল সময়মতো চালু না হওয়া জনস্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি। অন্য দিকে এর সাথে দুর্নীতি ও লুটপাটের শঙ্কাও জড়িয়ে থাকে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, “ভবন হস্তান্তর, প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্গানোগ্রাম তৈরি করা প্রয়োজন। একই সাথে আর্থিক কোড সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত এটি কার্যকর করা হবে।”
প্রকল্পের ধীর গতির কারণে প্রতিনিয়ত হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই সময়সীমার মধ্যে আদৌ চালু হয় কিনা দক্ষিণাঞ্চলের বহুল প্রতীক্ষিত এই হাসপাতাল।