ঢাকারবিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশাল কর বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লা দুর্নীতির শীর্ষে

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ ৫:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৯৯

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল কর বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট রতন মোল্লা দুর্নীতির শীর্ষে।

বরিশাল কর কমিশনারের কার্যালয়ে স্টেনো টাইপিস্ট মোঃ রতন মোল্লার নাম নতুন কিছু নয়। অফিসের তৃতীয় শ্রেণীর এই কর্মচারী দীর্ঘকাল ধরে নিজের প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সম্পদ বৃদ্ধির জন্য আলোচিত।

রতন মোল্লা ২০১৩ সালে বরিশাল কর কমিশনার কার্যালয়ে স্টেনো টাইপিস্ট হিসেবে যোগদান করেন। চাকরির আগে তিনি বরিশালের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। যদিও পদমর্যাদা তৃতীয় শ্রেণীর, তবুও তার কর্মকাণ্ড এবং প্রভাব বরিশাল কর বিভাগে অনেককেই বিস্মিত করে।

তিনি সার্কেল-২ এবং সার্কেল-৮ এ দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকেন, যার কারণে হেডকোয়ার্টারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রভাবের মাধ্যমে তিনি বড় বড় করদাতাদের ফাইল নিয়ন্ত্রণ এবং নিজের সুবিধামতো কর কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগ
ডাক্তার, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর ফাইল নিয়ন্ত্রণ করে অনিয়মিত লেনদেন করা।

ফাইল গায়েব, অডিটের ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং বড় অঙ্কের ঘুষ আদায়।

অফিসারদের প্রভাবিত করে নিজের স্বার্থে বদলির বাণিজ্য পরিচালনা।

দীর্ঘকাল একই সার্কেলে থাকায় স্থানীয় কর আইনজীবীদের সতর্কতা সত্ত্বেও তার কার্যক্রম অব্যাহত।

সম্পদ ও প্রভাব
রতন মোল্লার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি লক্ষ করার মতো। তথ্য অনুযায়ী:

বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার FDR এবং সঞ্চয়পত্র।

চরফ্যাশন এবং বরিশাল নগরীতে জমি ও বহুতল ভবন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শেয়ার মালিকানা।

পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে আরও সম্পদ।

প্রকল্পিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

অভিযোগ ও তদন্ত
বিভিন্ন কর আইনজীবী এবং নাগরিকরা তার বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রতন মোল্লা ডাক্তার এবং ব্যবসায়ীদের ফাইল জিম্মি করে, বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ফাইল নিষ্পত্তি করছেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: মোঃ আতাহার উদ্দিন বরিশাল থেকে লিখিত অভিযোগ।

১০ আগস্ট ২০২৫: মোহাম্মদ হেমায়েত উদ্দিন, এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ।

তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

পারিবারিক প্রভাব:- রতন মোল্লার ভাই-ইব্রাহিম মোল্লা সার্কেল-১৬ লালমোহনে নাইটগার্ড এবং লিটন মোল্লা সার্কেল-১৯, গলাচিপায় নোটিশ সার্ভার হিসেবে কর্মরত। পরিবারিক প্রভাব এবং অফিসিয়াল নেটওয়ার্কের কারণে রতনের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত।

মোঃ রতন মোল্লা একজন স্টেনো টাইপিস্ট হলেও বরিশাল কর বিভাগে তার প্রভাব, সম্পদ ও ক্ষমতা অনেককেই ছাপিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী, তার কর্মকাণ্ড সতর্ক ও স্বতন্ত্র তদন্তের দাবি রাখে।