
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কজীপাড়া এলাকায় বৈধ সাফ কবলা দলিল ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে জমি দখল করে টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ জানায়, বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নিবন্ধিত সাফ কবালা দলিল অনুযায়ী মোট ০২ (দুই) শতাংশ ভূমির বৈধ মালিক তারা। জমিটি বরিশাল জেলার বগুড়া আলেকান্দা মৌজার এস.এ ৩৭২ নং দাগ ও বিএস ২৩১০, ২৩১১, ২৩১৬, ২৩১৭ নং দাগ ভুক্ত ভূমির অংশ, যার চারদিকে চৌহদ্দি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। দলিল সূত্রে জানা যায়, মৃত আঃ মজিদ হাওলাদারের পুত্র আবদুল খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে মোঃ সাইদুর রহমানের পুত্র মোঃ মামুনুর রসিদ ক্রয় করেন। যিনি পেশায় প্রবাসী। দলিল অনুযায়ী উক্ত ভূমির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম দিকের চৌহদ্দি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে এবং পশ্চিমে রয়েছে বি.সি.সি সড়ক। অভিযোগে বলা হয়,
গত শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ করে জমিটিতে প্রবেশ করে এডভোকেট কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি দখল নেন এবং দ্রুত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেন। মোঃ মামুনুর রসিদের দাবি, বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে এবং আমাদের না জানিয়ে করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, “দলিল, খতিয়ান ও চৌহদ্দি স্পষ্ট থাকার পরও প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে জমি দখল করা হয়েছে। আইনজীবী পরিচয় ব্যবহার করে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।” এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হঠাৎ গভীর রাতে টিনশেড ঘর উঠতে দেখে তারা বিস্মিত হন। পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত এডভোকেট কামরুল ইসলামের ০১৭৮….৫১৬ এই নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে- দলিল ও সরকারি রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রকাশ্যে জমি দখল করেন? আইনজীবী হয়েও এমন অভিযোগে জড়ানোয় বিষয়টি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করে বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

