
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রাম রোডসংলগ্ন সিকদার পাড়া, সামসুমিয়ার গ্যারেজ ও শরীফ বাড়ি এলাকায় রাতের আঁধারে বালু ফেলে জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর পরিবেশ ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের সুদৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে।
রাতের আঁধারে ভরাটের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, নবগ্রাম রোডের সিকদার পাড়া, সামসুমিয়ার গ্যারেজসংলগ্ন ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ বাড়ি এলাকায় রাতের বেলায় বালু ফেলে জলাশয় ভরাটের কাজ চলছে। এভাবে জলাশয় ভরাট অব্যাহত থাকলে এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
তবে জলাশয়টির সুনির্দিষ্ট আয়তন, মালিকানা, ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।
জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি
বরিশাল নগরীতে জলাশয় ও পুকুর ভরাট নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ দেখা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাশয় ভরাটের অভিযোগে সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বৃষ্টির পানি ধারণ এবং নগরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে জলাশয় সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে কোনো জলাশয় ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেলে সেটির প্রকৃতি, অবস্থান, মালিকানা ও আইনগত অবস্থান যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
আইন কী বলছে?
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এর ৮ ধারায় আইনবিরোধীভাবে প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে বিধান রয়েছে। তবে আলোচ্য জলাশয়টির ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা দরকার।
প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের সুদৃষ্টি কামনা
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত, ভরাটের অনুমোদন যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে জলাশয়টির প্রকৃত অবস্থা ও সীমানা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—বরিশালের প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।

