ঢাকারবিবার , ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে যুদ্ধ ঘোষণা : ওসি আল মামুন-উল ইসলামের

ক্রাইম টাইমস রিপোর্ট
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ ৩:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৫৮

মো: আম্মার হোসেন আম্মান :: গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যখন চরম অনিশ্চয়তায়, তখন সেই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সারা দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ভয়ংকর মাদক সিন্ডিকেট। দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বরিশাল নগরী পরিণত হয় মাদক ব্যবসার নিরাপদ করিডোরে। নগরীর অলিগলি, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও গড়ে ওঠে প্রকাশ্য মাদক বাজার।

প্রশাসনিক দুর্বলতা ও পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার সুযোগে সংঘবদ্ধ মাদকচক্র নগরজুড়ে শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করে। দিনের আলোতেই চলে বিক্রি, রাত নামলেই নগরী রূপ নেয় মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে। সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়ে।

দায়িত্ব নিয়েই মাদককারবারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) আওতাধীন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আল মামুন-উল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস নয়, জিরো টলারেন্সই শেষ কথা।

তার নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানা এলাকায় শুরু হয় টানা অভিযান। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একের পর এক ঝটিকা অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় নগরীর কুখ্যাত মাদক হটস্পট। গ্রেপ্তার করা হয় একাধিক শীর্ষ ও মাঝারি স্তরের মাদক কারবারি, উদ্ধার করা হয় ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য।

ভাঙতে শুরু করে মাদক সাম্রাজ্য!

স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে বরিশাল নগরীর মাদকচক্রের একটি বড় অংশ কার্যত ধসে পড়ে। যারা এতদিন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করত, তারা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়াতে নগর ছেড়ে অন্য জেলায় আত্মগোপনে চলে গেছে।
একসময় যে এলাকাগুলো ছিল মাদক ব্যবসার হটজোন, সেখানে এখন দিনের আলোয় স্বাভাবিক জনচলাচল ফিরতে শুরু করেছে।

আতঙ্ক থেকে স্বস্তিতে নগরবাসী!

মাদক সন্ত্রাসের কারণে দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা নগরবাসী এখন কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। অভিভাবকরা বলছেন, আগে যেখানে সন্তানদের সন্ধ্যার পর বাইরে বের হতে দিতে ভয় পেতেন, এখন সেই আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে।
নগরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মুখে একই কথা—
“যা আগে কেউ সাহস করেনি, ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন তা করে দেখিয়েছেন।”

কঠোর অবস্থানেই বদলেছে চিত্র।

স্থানীয়দের মতে, ওসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আপসহীনতা। রাজনৈতিক প্রভাব, সুপারিশ বা চাপ—কোনো কিছুকেই আমলে না নিয়ে তিনি মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন। ফলে নতুন করে নগরীতে মাদক ব্যবসা মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ পায়নি। বরং বিদ্যমান কারবারিরা বাধ্য হয়ে ভূগর্ভে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলছেন বিশ্লেষকরা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে যে মাদক সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, কোতোয়ালি থানার এই অভিযান সেটি ভাঙার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট টার্নিং পয়েন্ট।

তাদের মতে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বরিশাল নগরী মাদকচক্রের জন্য আর নিরাপদ আশ্রয়স্থল থাকবে না।
প্রশ্ন এখন একটাই

নগরবাসীর প্রশ্ন এই কঠোর অভিযান কি শুধু কোতোয়ালি থানা এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি পুরো মহানগর জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে?

বরিশালের মানুষ এখন অপেক্ষায়, মাদকমুক্ত নগরীর পথে এই যুদ্ধ কতদূর এগোয়।