
নিজস্ব প্রতিবেদক :: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিডি) কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে সরকারি অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও সামনে আসায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি প্রকল্পের সিপিসি (কমিউনিটি প্রকিউরমেন্ট কমিটি) হিসেবে স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াদুলকে দায়িত্ব দেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। ওই প্রকল্পের আওতায় দপ্তরের টয়লেট মেরামত ও আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে খুব সামান্য কাজ করেই পুরো বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাত থেকে উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই বরাদ্দের আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা থাকলেও অধিকাংশ প্রকল্পেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে এসব কাজ বণ্টন করা হয়েছে।
অভিযোগের তালিকায় রয়েছে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের টাইলস মেরামতের একটি কাজও। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার এই প্রকল্পটি টেন্ডারের মাধ্যমে ‘বিডি ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পেলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে না দিয়ে পুরনো কাজ দেখিয়েই বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া কেদারপুর এইচএস জামে মসজিদের ওজুখানা নির্মাণে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ‘চৌধুরী কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিল প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও বাসিন্দাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উপজেলা ও কয়েকটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকিতে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট করছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী কাজী এমামুল হক আলীম। তিনি বলেন, সব কাজই নিয়ম অনুযায়ী এবং ঠিকাদারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে অফিসে এসে ফাইল পর্যালোচনা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।

