ঢাকাThursday , 30 July 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিইউডিএসে ছদ্মনামে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ : ট্রু কলারে সহ-সভাপতির নম্বর

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
৬৭

ধীমান ঢালী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (বিইউডিএস) এক দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে পরিচয় গোপন করে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এই বিতর্ক সংগঠনের ৯ম কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি (ইংরেজি বিতর্ক) পদ সামলানো মো: বিপ্লবের বিরুদ্ধে সাধারণ বিতার্কিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযুক্ত বিপ্লব বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের ১১তম ব্যাচের (সেশন ২০২১-২২) শিক্ষার্থী।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিইউডিএসে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পদের লোক থাকার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে বিপ্লবকে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা গেছে।

এছাড়া শিবিরের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহায়তা সংক্রান্ত একটি প্রচারপত্রে ‘বিবিএ অনুষদ’ প্রতিনিধি হিসেবে ‘মুহাম্মদ বিলাল’ নামে একজনের পরিচয় ও একটি মোবাইল নম্বর (০১৭২২০৮০২৬৫) ব্যবহার করা হয়। ডিজিটাল মাধ্যম ও ট্রু-কলার (Truecaller) অ্যাপে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নম্বরটি বিইউডিএস নেতা মো: বিপ্লবের। অরাজনৈতিক সংগঠনে অবস্থান করে ছদ্মনামে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব পালন করাকে বিতার্কিকরা ‘তথ্য গোপন’ ও ‘গুপ্ত রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিইউডিএসের সহ-সভাপতি মো: বিপ্লবের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বা সাড়া মেলেনি।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সংগঠনের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ। তিনি জানান, “বিইউডিএস সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। গঠনতন্ত্র বিরোধী বা কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংগঠনের চিফ মডারেটর ও শিক্ষক তানভীর কায়সার বলেন, “বিতর্কের চর্চা পুরোপুরি অরাজনৈতিক হওয়া উচিত। এখানে কোনো দলীয় এজেন্ডা স্থান পেতে পারে না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই সাধারণত কমিটি গঠন করেন, মডারেটরদের এতে সরাসরি ভূমিকা থাকে না। তবুও রাজনৈতিক পদধারী কাউকেই যেন কমিটিতে না রাখা হয়—এমন স্পষ্ট নির্দেশনা সব সময়ই থাকে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ বিতার্কিকদের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা কোনো অপরাধ নয়, তবে অরাজনৈতিক কোনো সংগঠনের পদ ধরে রাখতে ছদ্মনাম ব্যবহার ও পরিচয় গোপন করা নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।