ঢাকাSunday , 4 October 2026
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হিজলায় দুপুর ২টা ১০ মিনিটেই নেই ইউএনও-কর্মচারীরা কার্যালয়ে তালা!

Link Copied!

সংবাদটি শেয়ার করুন....
২৩

আহমেদ বায়েজিদ :: সরকারি কর্মঘণ্টা তখনও শেষ হয়নি। ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ২টা ১০ মিনিট। অথচ বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তখন ঝুলছিল তালা। নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী, নেই জনসেবার কার্যক্রম। সরেজমিনে এমন চিত্র পাওয়ার পরই প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা কার্যালয় বন্ধ হলো কীভাবে?

আজ ৪ অক্টোবর দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সরেজমিনে পরিদর্শন করে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় কার্যালয়ে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি। অফিসে আসা কয়েকজন কর্মচারীও এর আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার সকালে সরকারি কাজে বরিশাল জেলা শহরে সভায় অংশ নিতে যান। তবে তার অনুপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের অধিকাংশকেও কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি বলে সরেজমিনে জানা গেছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—ইউএনও সরকারি কাজে বাইরে থাকলে উপজেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক কার্যক্রম তদারক করছিলেন কে? আর নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই কার্যালয় তালাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তই বা কে নিলেন?
ঘটনাটি নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অফিস সময়ে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় তালাবদ্ধ কেন ছিল, খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।” পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অফিসের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন বলেন, “খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদারের সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে কর্মঘণ্টার মধ্যে তার কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরকারি কর্মঘণ্টার মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় তালাবদ্ধ পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা নিতে নির্ধারিত সময়ে অফিসে এলেও যদি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের না পান, তাহলে জনসেবা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

সচেতন মহলের দাবি, ঘটনাটি নিছক এক দিনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে নিয়মিত অফিস ফাঁকি বা কর্মঘণ্টা না মানার কোনো প্রবণতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর্মঘণ্টার মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, আগেভাগে অফিস ত্যাগ এবং কার অনুমোদনে কার্যালয় তালাবদ্ধ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এখন দেখার বিষয়, বিভাগীয় কমিশনারের খোঁজখবর ও প্রশাসনের তদন্তে হিজলা ইউএনও কার্যালয় দুপুর ২টা ১০ মিনিটেই তালাবদ্ধ থাকার প্রকৃত কারণ কী বেরিয়ে আসে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।